মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আগামী সপ্তাহে কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে শনিবার ভারতে পৌঁছেছেন। কোয়াড হলো ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলগত জোট।
শনিবার ভোরে তিনি কলকাতায় পৌঁছান। সেখানে তিনি মাদার তেরেসা প্রতিষ্ঠিত দাতব্য সংস্থা ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটি’র সদর দপ্তর ‘মাদার হাউস’ পরিদর্শন করবেন। এরপর ঐতিহাসিক স্থাপনা ও রাজকীয় প্রাসাদের জন্য বিখ্যাত আগ্রা ও জয়পুর শহর সফর করবেন। রুবিওর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে পারেন। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াডের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন রুবিও।
চার দিনের সফরে রুবিও ভারতের বিভিন্ন শহর পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক বিশেষ সংবর্ধনায়ও অংশ নেবেন।
সফরের আগে রুবিও বলেন, ‘ভারত আমাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ও অংশীদার। তাদের সঙ্গে আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। তাই এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক নীতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারতীয় বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।এমন প্রেক্ষাপটেই রুবিওর এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এই জোট দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং সমুদ্রসীমা নিয়ে আগ্রাসী অবস্থান গ্রহণের জন্য চীনের সমালোচনা করে আসছে।
অন্যদিকে চীন দাবি করে, তাদের সামরিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং দেশের সার্বভৌম অধিকার রক্ষার জন্য পরিচালিত হয়। বেইজিংয়ের মতে, কোয়াড আসলে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক প্রভাব সীমিত করার একটি উদ্যোগ।
গত বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর রুবিওর প্রথম আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক কর্মসূচিও ছিল কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করা। তিনি তখন যৌথ ও পৃথক উভয় ধরনের আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন।
পূর্বকোণ/পিআর
















