যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো শহরের সবচেয়ে বড় মসজিদ ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোতে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৮ মে) স্থানীয় সময় দুপুরে দুই কিশোর হামলাকারী মসজিদ প্রাঙ্গণে গুলি চালালে তারা নিহত হন। পরে সন্দেহভাজন দুই হামলাকারীকেও কাছাকাছি একটি গাড়ির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশ ধারণা করছে, তারা আত্মহত্যা করেছে।
পুলিশ জানায়, নিহতদের মধ্যে মসজিদের একজন নিরাপত্তারক্ষীও ছিলেন। কর্মকর্তাদের মতে, ওই নিরাপত্তারক্ষীর সাহসী পদক্ষেপের কারণেই আরও বড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনাটিকে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনার সময় মসজিদের ভেতরে শিশু ও সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর মসজিদসংলগ্ন আল রাশিদ স্কুলের শিক্ষার্থীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের বয়স ১৭ ও ১৮ বছর। তাদের কাছ থেকে ‘ঘৃণামূলক বক্তব্য’ সম্পর্কিত কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যদিও তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
শহরের পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল জানান, হামলার আগে এক সন্দেহভাজনের মা পুলিশকে ফোন করে জানান যে তার ছেলে নিখোঁজ এবং আত্মহত্যাপ্রবণ আচরণ করছিল। পরিবারের কয়েকটি অস্ত্রও পাওয়া যাচ্ছিল না। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ তাদের খুঁজছিল। এর মধ্যেই মসজিদে গুলির খবর আসে।
মসজিদের ইমাম তাহা হাসানে এই হামলাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করে বলেন, উপাসনালয় কখনোই সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না। স্থানীয় মুসলিম সংগঠন এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং স্থানীয় প্রশাসন হামলার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তারা জানান, ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং দায়ীদের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালানো হবে।
পূর্বকোণ/এএইচ
















