চট্টগ্রাম সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে পাশে থাকার অঙ্গীকার এলপিপি’র

অনলাইন ডেস্ক

২৪ আগস্ট, ২০২৬ | ১:০২ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে ইউরোপের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রিটেইল প্রতিষ্ঠান এলপিপি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে নিজেদের ভূমিকা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ পোশাক ক্রেতা হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এলপিপি। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে পোশাক সোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান অষ্টম। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের পোশাক সংগ্রহ করে এলপিপি। পাশাপাশি দেশের ৩৫০টিরও বেশি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের পোশাকশিল্পের বিকাশে সরাসরি অবদান রাখছে এলপিপি।

 

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের বিষয়ে এলপিপি জানিয়েছে, এফইএস-এর সঙ্গে পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে তারাই সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বর্তমানে এফইএস-এর কাছে এলপিপির পাওনা রয়েছে ৩৬.৫ বিলিয়ন টাকা, যা প্রায় ১.১ বিলিয়ন পোলিশ জ্লোতির সমপরিমাণ। এ পরিস্থিতির ফলে পোল্যান্ডভিত্তিক এই রিটেইল প্রতিষ্ঠানকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির ভার বহন করতে হয়েছে। তৃতীয় পক্ষের এসব দায় থেকে সৃষ্ট আর্থিক চাপের মধ্যেও পরিস্থিতি স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করছে এলপিপি।

 

তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে, তা হলো—এই আর্থিক চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। বাংলাদেশ থেকে সোর্সিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, নিজস্ব চুক্তির আওতায় সব ধরনের দায় যথাসময়ে ও যথাযথভাবে পরিশোধ করা এবং স্থানীয় পোশাক প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে স্থিতিশীল, স্বচ্ছ ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

এলপিপির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “বাংলাদেশ আমাদের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এফইএস-সংক্রান্ত ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের পোশাক খাতের স্থিতিশীলতা, দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি এবং এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষা করাই আমাদের অগ্রাধিকার।”

 

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের স্থানীয় পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক আস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

বাংলাদেশে এলপিপির দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক উপস্থিতি ও বিনিয়োগ স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব রাখার পাশাপাশি দেশের পোশাকশিল্পকে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে আরও শক্তিশালীভাবে যুক্ত করতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ও অংশীদারিত্বেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শেয়ার করুন