চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইউনিলিভার, চসিক ও ইপসা’র ত্রিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব নবায়ন

প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইউনিলিভার, চসিক ও ইপসা’র ত্রিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব নবায়ন

অনলাইন ডেস্ক

১১ মে, ২০২৬ | ৭:২৩ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরীর প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী এবং এই খাতের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এবং ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল একশন (ইপসা) তাদের ত্রিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব আরও দুই বছরের জন্য নবায়ন করেছে।

 

আজ সোমবার (১১ মে) নগরীর হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউয়ের মেজবান হলে এই সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠান হয়।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন, বেসরকারি খাত এবং সিভিল সোসাইটির সমন্বিত উদ্যোগ নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল করবে। এই উদ্যোগকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ চট্টগ্রাম গড়ার লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হিসেবে অভিহিত করেন মেয়র।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী; ইপসা’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান; ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুহুল কুদ্দুস খান এবং করপোরেট অ্যাফেয়ার্স পরিচালক শামিমা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।

 

উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে এই উদ্যোগের আওতায় চসিকের ৪১টি ওয়ার্ডে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্ক্র্যাপ ক্রেতা (ভাঙারিওয়ালা) এবং রিসাইক্লারদের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩,০০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ২২০ জন স্ক্র্যাপ ক্রেতাকে প্রশিক্ষণ এবং প্রায় ২,০০০ কর্মীকে নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালে চালু হওয়া গ্রুপ লাইফ ইন্স্যুরেন্স সুবিধার মাধ্যমে ১,৮২৭ জন কর্মী দুর্ঘটনাজনিত আর্থিক সুরক্ষার আওতায় এসেছেন।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এই উদ্যোগের মাধ্যমে ৩২,০০০ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যার ৭০ শতাংশই ছিল ফ্লেক্সিবল প্লাস্টিক। বর্তমানে অংশগ্রহণকারী স্ক্র্যাপ ক্রেতাদের অর্ধেকই ট্রেড লাইসেন্সধারী এবং প্রত্যেকের সক্রিয় ব্যাংক হিসাব রয়েছে।

 

ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও রুহুল কুদ্দুস খান বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাস ও সার্কুলারিটি ত্বরান্বিত করতে ইউনিলিভার গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশে কাজ করছে। চসিক ও ইপসার সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

এই উদ্যোগ অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের আয় বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করছে । অনুষ্ঠানে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অবদানের জন্য দুজন বর্জ্য সংগ্রাহক এবং দুজন স্ক্র্যাপ ক্রেতাকে সম্মাননা প্রদান করা হয় বলে ইপসা’র প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান উল্লেখ করেন।

 

নবায়নকৃত এই চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে প্লাস্টিক সংগ্রহ কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও আচরণগত পরিবর্তনের ওপর  গুরুত্ব দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে কমিউনিটি কার্যক্রমের মাধ্যমে ২৫ হাজার পরিবার এবং ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে অনুষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে।

 

পূর্বকোণ/কায়ছার/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট