জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল সাংবিধানিক সংস্কার ও বৈষম্য দূর করা উল্লেখ করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর বিএনপি দ্রুত নির্বাচনের কথা বললেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আগে বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধানের দাবি জানিয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটে জুলাই সনদের পক্ষে জনগণের সমর্থন আসার পরও বিএনপি আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে, যার ফলে দেশে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।
আজ রবিবার (১০ মে) বিকেলে নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের বিষয় ছিল ‘জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল সাংবিধানিক সংস্কার ও বৈষম্য দূর করা’।
ড. কর্নেল অলি আহমদ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে এবং সরকারের উচিত জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখানো। তিনি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
সেমিনারে প্রধান আলোচকে বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার ও বিএনপির অবস্থানের মধ্যে অস্পষ্টতা রয়েছে। গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে অগ্রাহ্য করা হলে দেশে নতুন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, গণভোট জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ্ধতি। তিনি দাবি করেন, গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটকে আরও গভীর করতে পারে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি, ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম।
এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা সেমিনারে বক্তব্য দেন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সাংবিধানিক সংস্কার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।


















