চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

সর্বশেষ:

ঘরে ঢুকে মারধর, স্ত্রীর শ্লীলতাহানি ও লুটতরাজ

মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ আগস্ট, ২০২৪ | ৯:৪৩ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামে এক পুলিশ সদস্যের বাসায় ঢুকে তাকে মারধর, স্ত্রীকে শ্লীলতাহানিসহ নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের পর মামলা দায়ের করা হয়। এখন সেই মামলা তুলে নিয়ে বাদীকে বারবার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

 

গত রবিবার (১১ আগস্ট) নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন চৌধুরীনগর এলাকায় এই হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরদিন সোমবার (১২ আগস্ট)  নগরীর বায়েজিদ থানায় ওই পুলিশ সদস্যের স্ত্রী রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে মামলা তুলে নিতে তাদেরকে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে জানান রোজিনা।

 

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার সেলিমের অনুসারী ফোরকান নামে এক ব্যক্তি চমেক হাসপাতালে এসে আমাদের মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দেয়। মামলা না তুললে হত্যার হুমকিও দিয়েছে সে।

 

ঘটনায় আহত ওই পুলিশ সদস্য হলেন- চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্ণফুলী থানায় কর্মরত কনস্টেবল ফৌজুল করিম। ঘটনার পর ওই পুলিশ সদস্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগে ও তার স্ত্রীও হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হামলার সময় ওই পুলিশ সদস্য সারা দেশের অন্যান্য পুলিশের মতো কর্মবিরতিতে ছিলেন।

 

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পুলিশ সদস্য ফৌজুল স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়তে যায়। এ সময় ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী হাতে কিরিচ, চাপাতি ও লোহার রড নিয়ে ফৌজুলের বাসায় এসে তাকে খুঁজতে থাকে। এ সময় স্বামীকে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির পাশাপাশি মারধর, ঘরে থাকা নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয়। ঘটনা শুনে তখন ওই পুলিশ দ্রুত বাসায় আসে। এ সময় হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে ওই পুলিশ সদস্যকেও পিটিয়ে জখম করার পর হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। একই সময় স্থানীয়রা সেনাবাহিনীর টহল টিমকে খবর দিলে তারা রকিবুল ইসলাম সেলিম ও মো. ফরহাদ প্রকাশ সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

 

ফৌজুল করিমের শালা জমির উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির অনুসারী হিসেবে পরিচিত রাকিবুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার পর চমেকে গিয়ে ও ফোনে বিভিন্নভাবে মামলা তুলে নিতে অনবরত হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

 

বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় কুমার সিনহা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ সদস্যকে মারধর, লুটপাটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজন গ্রেপ্তার রয়েছে। হুমকির বিষয়ে কেউ জানায়নি। জানালে ব্যবস্থা ‍নেব।

 

 

পূর্বকোণ/জেইউ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট