টেকনাফের নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় বাংলাদেশি জেলেদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেছে মিয়ানমারের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী।
শনিবার (৩০ মে) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে হ্নীলা স্লুইচগেট সংলগ্ন নাফ নদীতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেকের জানান, বিকেলে হ্নীলা সীমান্তের বেড়িবাঁধে স্থানীয়রা যখন ঘুরছিলেন, তখন মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় সশস্ত্র গ্রুপটি নাফ নদীতে প্রবেশ করে। তারা মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের ধাওয়া করে এবং কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। জেলেরা প্রাণ বাঁচিয়ে নদীর কূলে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও, সশস্ত্র গ্রুপটি জেলেদের ফেলে রাখা নৌকা ও জাল নিয়ে মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে চলে যায়। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম.এম অনীক চৌধুরী জানান, নাফ নদীতে গোলাগুলির খবর তিনি শুনেছেন এবং এ বিষয়ে বিজিবির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
তবে স্থানীয়রা প্রশাসনের এই ভূমিকাকে ‘রহস্যময় নির্বিকারত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
হ্নীলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তার মেরুদণ্ড কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তাদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘ ১৫-২০ বছরের মাদক ব্যবসার বিষাক্ত চক্রের চূড়ান্ত পরিণতি। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রিত প্রায় ১৪ লক্ষ রোহিঙ্গার উপস্থিতির সুযোগে আরাকান আর্মি এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সীমান্ত এলাকায় এক অশান্ত পরিবেশ তৈরি করেছে।
সীমান্তের বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশের সাথে স্থানীয় অপরাধী চক্রের আঁতাত রয়েছে, যার ফলে মাদকের কারবার অবাধে চলছে। তারা বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করেছেন।
দাবিগুলো হল-বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বাধীন ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে, গত ১৫ বছরে টেকনাফে দায়িত্বরত সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করে তাদের অর্জিত সম্পদের হিসাব নিতে হবে এবং ড্রোন ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক নজরদারি, আধুনিক জলযান মোতায়েন এবং প্রয়োজনে বিজিবিকে বলপ্রয়োগের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যদি এখনই রাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে টেকনাফ সীমান্ত দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের মুখে পড়বে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ
















