চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

কক্সবাজারে ২০ হাজার টাকায় শিশু কেনার দাবিটি ‘গুজব’, মুক্ত পর্যটক দম্পতি

কক্সবাজার প্রতিনিধি

৩০ মে, ২০২৬ | ৩:০৫ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এলাকায় বেড়াতে এসে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে আড়াই মাস বয়সী এক শিশুকে কিনে নেওয়ার চেষ্টার যে খবরটি ছড়িয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও গুজব’ বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

পর্যটক দম্পতির বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগের কোনো সত্যতা না মেলায় এবং শিশুর মা তার ভুল বোঝাবুঝি বুঝতে পেরে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আটক দম্পতিকে থানা হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া এলাকা থেকে সৌরভ হাসান ও লাইলা বেগম লতা নামের এক পর্যটক দম্পতি তাদের ৬ বছরের কন্যাসন্তানসহ কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে রুম বুকিং নেন। বিকেলে সৈকতে বেড়ানোর সময় বিচ হকার জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক তৈরি হয়। পরিচয়ের সুবাদে পর্যটক লাইলা বেগম আড়াই মাস বয়সী কান্নারত শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদর করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে শিশুসহ তারা হোটেল রুমে চলে আসেন।

এদিকে, একদিনের জন্য রুম নেওয়া পর্যটকরা হুট করে একটি অপরিচিত শিশুসহ হোটেল ত্যাগ করার প্রস্তুতি নিলে ম্যানেজারের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। শিশুটি কার—জানতে চাইলে দম্পতিটি অপ্রস্তুত হয়ে ‘বোনের সন্তান’ বলে দাবি করেন। এতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে হোটেল কর্তৃপক্ষ জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল দেয়। পরে ট্যুরিস্ট পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে ওই দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করে।

থানায় নিয়ে আসার পর জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিষয়টি স্পষ্ট হয় এবং শিশুর মা ফাতেমা বেগম তার অভিযোগ তুলে নেন। এর পরই পুলিশ ওই পর্যটক দম্পতিকে ছেড়ে দেয়।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী নাদিম পূর্বকোণকে বলেন, ২০ হাজার টাকা দিয়ে সন্তান কিনে নেওয়ার যে বিষয়টি ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অতিরিক্ত প্রচার এবং একটি ভিত্তিহীন গুজব। মূলত সৈকতে পরিচয়ের পর ভুল বোঝাবুঝি থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। শিশুর মা তার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আমরা ওই পর্যটক দম্পতিকে ছেড়ে দিয়েছি।

পূর্বকোণ/এরফান/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট