চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

ক্রেতার অভাবে রাঙ্গুনিয়ায় নদীতে ফেলা হচ্ছে কোরবানি পশুর চামড়া

ক্রেতার অভাবে রাঙ্গুনিয়ায় কোরবানির পশুর চামড়া ফেলে দিল নদীতে

রাঙ্গুনিয়া সংবাদদাতা

২৯ মে, ২০২৬ | ৬:০৪ অপরাহ্ণ

‎চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কোরবানির পশুর চামড়া ক্রেতা না পেয়ে নদীতে ফেলে দিয়েছে স্থানীয়রা। গরুর চামড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও ছাগল-ভেড়ার চামড়া ফ্রিতেও নিচ্ছে না ক্রেতারা। ফলে চামড়া নিয়ে বিপাকে ও হতাশায় ভুগছেন মানুষ। অনেকে উপায় না পেয়ে চামড়া মাঠিতে পুঁতে ফেলতেও দেখা গেছে।

‎সরেজমিনে উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, দুপুর থেকে বিভিন্ন স্থানে মাদ্রাসা, গাউছিয়া কমিটি, গাউছিয়া সমিতি ও মঈননিয়া যুব ফোরাম, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সংগ্রহ করা চামড়া ৫০ বা ১০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে না বলে জানান। গরুর চামড়া ৫০ টাকায় বিক্রি করতে পারলেও খাসি, ছাগল, ভেড়ার চামড়া কেউ কিনছেন না বলে জানান। কেউ কেউ ফ্রিতেও নিচ্ছেন না বলে জানা যায়।

‎পোমরা গাউছিয়া কমিটির কর্মী আবদুল জব্বার জানান, ‎আমরা সকাল থেকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া কামিল মাদ্রাসার জন্য চামড়া সংগ্রহ করতে থাকি। চামড়া সংগ্রহ করতে পরিবহন ভাড়াসহ কিছু টাকা খরচ হয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কোন ব্যবসায়ী এখন পর্যন্ত কোন চামড়ার দাম জিজ্ঞাসা করেনি। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ টাকা দামে বিক্রয় করে দিয়েছি।

‎কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, আমরা এলাকায় বা ঘরে ঘরে গিয়ে ১০০, ১৫০, ২০০ ও ৩০০ টাকা দামে চামড়া সংগ্রহ করেছি। কিন্তু বাজারে কোন ব্যবসায়ী চামড়ার কেনার জন্য আসেনি। ফলে নষ্ট না করে ক্ষতি হলেও মাত্র ৫০ টাকা দামে বিক্রি করে দিয়েছি।

‎স্থানীয় কিছু মাদ্রাসা হতে জানা যায়, এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা মাদ্রাসার জন্য শতশত চামড়া ফ্রীতে দিলেও চামড়া সংগ্রহ করতে পরিবহনসহ শ্রমিকের মজুরি বাবদ একটি বড় অংকের টাকা খরচ হয়। দাম না পেয়ে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি চামড়া ৫০ টাকা দরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

‎স্থানীয় চামড়া ক্রেতারা জানান, ‘চামড়া কিনে গত তিন চার বছর ধরে অনেক লোকসান করেছি’। এক ব্যবসায়ী জানান, গতবছর আমার তিন লক্ষ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। তাই এবার চামড়া কেনার সাহস পাচ্ছি না। আবার লবণের দামও বেশি। তবুও মাদ্রাসাসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের চামড়াগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দেখে ওইসব চামড়া কিনে উঠানে লবন দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছি। এসব কাজে একজন শ্রমিকের মজুরি এক দেড় হাজার টাকা খরচ হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

 

পূর্বকোণ/আরআর‎

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট