চট্টগ্রাম নগর ও পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে প্রাণহানি বন্ধ, নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা নিশ্চিত এবং সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগড়া, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বন্যাকবলিত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), চট্টগ্রাম জেলা শাখা।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় নগরের নিউমার্কেট মোড়ে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার ইনচার্জ আল কাদেরী জয়। বক্তব্য দেন জেলা সদস্য হেলাল উদ্দিন কবির ও জুবায়ের বীনা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর শাখার সভাপতি মিরাজ উদ্দিন এবং স্কুলবিষয়ক সম্পাদক উম্মে হাবিবা শ্রাবণী। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ জেলা সদস্য আহমদ জসিম।
বক্তারা বলেন, গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধস এবং জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যায় প্রায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এত প্রাণহানির পরও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিবছর পাহাড় ধসে মানুষ মারা গেলেও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয় না। পাহাড় কাটা বন্ধে আইন থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ না থাকায় একদিকে ভূমিদস্যু ও সিন্ডিকেট পাহাড় কেটে মুনাফা করছে, অন্যদিকে দরিদ্র মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, নালা, নর্দমা, ড্রেন ও খাল সময়মতো পরিষ্কার না করায় প্রতি বর্ষায় নগরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। প্রতিবছর এ খাতে বিপুল বাজেট বরাদ্দ হলেও চসিক ও সিডিএর কার্যকর উদ্যোগের অভাবে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে অতিভারি বর্ষণে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগড়া, চকরিয়া ও পেকুয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে লাখো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সমাবেশ থেকে বন্যাকবলিত এলাকায় অবিলম্বে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান নেতারা।
পূর্বকোণ/সারোয়ার















