বেশ কদিন আগে খুব পরিচিত এক মেয়েকে দেখলাম বিয়ে করতে ধুম ধাম নাচ গান সাথে পছন্দের ফটোসেশান আর উুরাধুরা বান্ধবীদের নিয়ে আয়োজন। অন্তত এটা বুঝলাম পছন্দের মানুষটাকেই বিয়ে করছে।
এই তো মাস দুয়েক হলো তার বিবাহিত জীবন নিয়ে সে ভীষণ বিরক্ত। প্রচণ্ড পরিমাণে বিরক্ত তবে তার বিরক্তের প্রধান কারণ- সে যাকে বিয়ে করেছে সে ছেলের যতেষ্ট পারিবারিক সচ্ছলতা আছে, তবে তা ছেলের নিজের নয়। তার বাবার গড়া সচ্ছলতা। বিয়ের মাস না যেতেই তার সাংসারিক জীবন অশান্তিতে ভরে গেলো। তার অভিযোগ সে যাকে বিয়ে করেছে তাকে নিয়ে চারিদিক থেকে হাসাহাসি আর পারিবারিক কটূক্তি আকার ইঙ্গিতে শুনতে হচ্ছে।
সে ভীষণ আফসোসের সূরে বললো হাসান ভাই- জানেন আমার সব কিছু আছে,বাসার নিচে গাড়ি,দোতালা এসি রুম আর বড় স্কিন টিভি কিন্তু এত কিছুর পরও আমার কিছু নেই। না এমন না যে আমার শাশুড়ি আমাকে কিছু বলে, না শ্বশুর-ননদ কেউ। এত প্রাচুর্যের মাঝেও আমি অসুখী অনুভব করছি।
জানো হাসান ভাই, আমার মা আমাকে বলে তোর কপাল বড়, এত বড় ফ্যামিলিতে তোকে বউ করে নিয়েছে। কিন্ত কিছুতেই আমার না, মন আর সায় দিচ্ছে না।। আমার জামাইও বলে, সবতো তোমার; তবে আমার নিজের বলতে আমার কিছুই নেই। আমিও কনফিউজড আসলে কি হলো বুঝতেছি না। হু হু করে কান্না করছে আর বলছে হাসান ভাই, রিকশায় চড়া হচ্ছে না, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ফুচকা খেতে পারছি না, ফুটপাত থেকে দামাদামি করে নিজের জন্য টি-শার্ট কিনতে পারছি না। আমার অনেক সোনার চুড়ি কিন্ত ঐ ১৫০ টাকার কাঁচের চুড়ি আর ২০০ টাকার ঝুমকা পড়া বারণ আমার।
আমার ৪০০ টাকার সুতির শাড়ি পড়া বারণ। আর এই বিষয় গুলোয় আমাকে শান্তি দিচ্ছে না, অথচ আমার সামনে পুরো এক রাজপ্রাসাদ যা চাইবো তাই পাবো। তবে কন্ডিশন একটাই- সোসাইটি মেইন্টেইন করে চলার মতোন সব পড়তে হবে, করতে হবে। হাসান ভাই, প্রিয় মানুষকেই তো বিয়ে করেছি। তখন তো এগুলো ভাবিনি কখনো। বিয়ে তে আইফোন ১৪ প্রো-ম্যাক্স দিয়েছে অথচ ৪ বছর টানা স্যামসাং এর টানটা ভুলতে পারছি না।
তাকে জাস্ট জিজ্ঞেস করলাম কি চাও তুমি?
তার উত্তর একটাই মুক্তি চাই, হাসান ভাই মুক্তি। আমি এখানে থাকলে দমবন্ধ হয়ে মরে যাবো।
আমি চুপ করে শুনেই গেলাম আর অভয় দিলাম- থেকে যাও, মানিয়ে নাও; আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। সে কিছুটা শান্ত হলো মন খুলে তার কথাগুলো বলতে পেরে।
তবে যা বুঝলাম সুখ বলতে আমরা আদৌও কি বুঝি? টাকা?
সুখ হচ্ছে সেটাই যেটাতে আমরা সাচ্ছন্দ্যবোধ করি অথচ আমরা টাকাকেই সুখ ভেবে সাচ্ছন্দ্যবোধকে মেরে ফেলে নিজেরাই আফসোস করে হাঁপিয়ে, কুকড়িয়ে ভেতরের আমিটাকে একদিন টুপ করে মেরে ফেলি।
সত্যি জীবন নাটকের চেয়েও নাটকীয়, আহারে জীবন, আহা। সূত্র : লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে নেয়া
পূর্বকোণ/এসি



















