চট্টগ্রাম সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে জামায়াত নেতাকর্মীদের যা বললেন জারা

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে জামায়াত নেতাকর্মীদের যা বললেন জারা

অনলাইন ডেস্ক

২৬ অক্টোবর, ২০২৬ | ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে বাধা ও উত্তেজনার ঘটনার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান।

 

মানিক পশারী শনিবার সকাল ১০টার দিকে ৮৭ বছর বয়সে মারা যান। পরে রবিবার দিবাগত রাত ২টার পর পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতালিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর মানিক পশারীর লাশ দাফন করেন তার পরিবারের সদস্যরা।

 

পরিবারের অভিযোগ, প্রথমবার কবর খোঁড়ার পর স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা সেটি ভরাট করে দেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় অন্য কাউকে কবর খোঁড়ার কাজে পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত মানিক পশারীর মেয়ে সীমু আক্তার ও তাঁর দুই বোন গ্রাম পুলিশের সহায়তায় মোবাইল ফোনের আলোয় নতুন করে কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন। পুলিশি নিরাপত্তায় গভীর রাতে দাফন সম্পন্ন হয়।

 

ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা বলেন, সাধারণত কারও মৃত্যু হলে এলাকার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কবর খোঁড়া ও দাফনের কাজে সহযোগিতা করেন। কিন্তু মানিক পশারীর ক্ষেত্রে তাঁর পরিবারকে দীর্ঘ সময় উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা মিছিল, মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে পিরোজপুরে মানিক পশারীকে দাফন করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

 

তাসনিম জারা আরও উল্লেখ করেন, মানিক পশারী সরকারি গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা। তবে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের এক সহকারী সেক্রেটারি তাঁকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে গার্ড অব অনার দেওয়া এবং পিরোজপুরে দাফনের বিরোধিতা করেছিলেন বলে তিনি পোস্টে জানান।

 

তাসনিম জারার মতে, মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না, তা যাচাই করার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আদালত রয়েছে। কিন্তু দাফনে বাধা দিয়ে এমন বিতর্কের মীমাংসা করার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, মৃত্যুর পর মানুষের বিচার আল্লাহর হাতে—এমন বিশ্বাস বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ।

 

পোস্টে জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার কথা বলার পাশাপাশি শোকাহত পরিবার এবং মৃত ব্যক্তির প্রতি আচরণেও সেই মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। বিরোধী দলে থাকতেই যদি কারও পারিবারিক কবরস্থানে দাফনে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পেলে কী করা হবে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

 

উল্লেখ্য, মানিক পশারী মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ছিলেন। তাঁর দাফন নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তাসনিম জারার বক্তব্যটি তাঁর ফেসবুক পোস্টের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে।

পূর্বকোণ/নুসরাত

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট