পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, বর্তমানে রোহিঙ্গা সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়েছে। তবে আমার বলতেই হবে যে গত ২০১৭ সাল থেকে যখন শুরু হয়েছে রোহিঙ্গা ইনফ্লাক্স, তখন যে ফ্যাসিবাদ সরকার ছিল, সেই সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে কোনো বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারেনি, ব্যর্থ হয়েছে।
সেটা যদি ওনারা ঠিকমতো করতে পারতেন এবং আন্তর্জাতিক মহলকে যুক্ত করতে পারতেন, তাহলে হয়ত চার-পাঁচ বছরের মধ্যে সমস্যার সমাধানের দিকে যাওয়া যেত, কিন্তু সেটা হয়নি। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, মিয়ানমারে রিসেন্টলি একটা নির্বাচন হয়েছে, নতুন সরকার এসেছে। সেখানে আরাকান আর্মি আছে, রাখাইন স্টেটের… ওখানে স্টেকহোল্ডাররা আছে।
সবমিলিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পলিটিক্যাল সিচুয়েশনটাও অনেক কমপ্লিকেটেড এখন। আমাদের বর্ডারে অনেক সমস্যা হচ্ছে, সিকিউরিটি প্রবলেম হচ্ছে।
বিভিন্ন ধরনের ক্রাইমের কথা শোনা যাচ্ছে– মানবপাচার, ড্রাগ ট্রাফিকিং এসব হচ্ছে। ১.৩ মিলিয়ন– সংখ্যাটাও কিন্তু এখন কেউ সঠিক বলতে পারছে না। কারণ প্রতিদিনই কমবেশি মানুষজন আসছে এবং বছরে গড়ে ওখানে ৩০ হাজার শিশু ভূমিষ্ঠ হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমরা সংখ্যাটাও ঠিকমতো এখন জানি না, কিন্তু ডেফিনেটলি ১.৩ মিলিয়নের ওপরে হবে।
শামা ওবায়েদ বলেন, এ সমস্যার সমাধানে রাখাইন স্টেটের সঙ্গে, আরাকানের সঙ্গে এবং মিয়ানমারের বর্তমান সরকারের সঙ্গে অফিশিয়ালি-আনঅফিশিয়ালি আমাদের যোগাযোগ, ডায়ালগ কিন্তু চলছে। ব্যাপারটা একেবারেই একটা পলিটিক্যাল প্রবলেম, এটা খুবই সংবেদনশীল একটা ব্যাপার এবং এই সমস্যাটা আমাদের পলিটিক্যালি সমাধান করার প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যে সফর হয়েছে চীন এবং মালয়েশিয়ায়, সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট খুবই জোরালো গলায় বলেছেন যে, উনারা চেষ্টা করবেন এই সমস্যার সমাধানের এবং বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবেন, মিয়ানমারের সঙ্গে কথা বলবেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও একই আশ্বাস দিয়েছে। টার্কিও রিসেন্টলি আমাদেরকে একই কথা বলেছে যে, তারাও চেষ্টা করবে মুসলিম বিশ্বের পক্ষ থেকে একটা প্রেসার ক্রিয়েট করা যায় কি না মিয়ানমারের ওপরে। সেই জায়গা থেকে আমরা সচেষ্ট আছি ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটিকে আরও বেশি ইনভলভ করতে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে রোহিঙ্গাদের ওপর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সেশন, হাই-লেভেল সেশন হবে, যেখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। আমরা আশা করছি ওই সেশন থেকেও এই সমস্যার সমাধানের আরও কিছু দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরাতে একটা এমওইউ হয়েছে। এটা থেকে বের হয়ে এলে যে খুব একটা লাভ হবে, আমি ব্যক্তিগতভাবে সেটা মনে করি না। কিন্তু এখন জাতিসংঘসহ অন্য যারা স্টেকহোল্ডার আছে, তাদের আরও বেশি যদি যুক্ত করতে পারি। এখন আমাদের একটা শক্তি হয়েছে যে এখন ইউএনজিএ প্রেসিডেন্ট আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলার মতো আন্তর্জাতিক মহলে একটা জোর হয়েছে আমাদের। সেই জায়গা থেকে আমরা মনে করি, অ্যাটলিস্ট আগামী এক বছর আমরা এই সক্ষমতাটাকে একটু ভালোমতো ব্যবহার করতে পারব।
সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, রোহিঙ্গাদের ফেরাতে ত্রিপক্ষীয় আলোচনাও কিন্তু তখন শুরু হয়েছিল চীন, বাংলাদেশ, মিয়ানমারের মধ্যে। এখন চীন আবার যে করিডোরের কথা বলছে, এটা ভায়াবল হবে বা এটা আসলে কাজে দেবে এই করিডোর যদি হয়?
এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তখন চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমারের ত্রিপাক্ষিক অ্যাগ্রিমেন্ট ছিল, তবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে তৎকালীন ফ্যাসিবাদ সরকার কাজ করছিল, সেখানে তারা সচেষ্ট ছিল না। আমি আবারও বলছি, যেহেতু তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ছিল না, সেই কারণে তাদের সেই গায়ের জোরটাই ছিল না বা সেই সক্ষমতাই ছিল না যে চীনকে প্রেসারটা তারা দেবে।
তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে আমরা পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছি। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত জোরালোভাবে সবার সঙ্গে সমঅধিকার নিয়ে, সম্মানের সঙ্গে, নিজেদের স্বার্থ বজায় রেখে উনি যখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, মেরুদণ্ড সোজা করে কথা বলছেন তখন চীনসহ অন্য স্টেকহোল্ডাররা কিন্তু আরও মনোযোগের সঙ্গে, আরও সিরিয়াসলি আমাদের কথাগুলো শুনছে। আমরা আশা করি বর্তমান প্রেক্ষাপট আগের প্রেক্ষাপটের চেয়ে একটু ভিন্ন। এখন যেহেতু বাংলাদেশের একটি নির্বাচিত সরকার, আমাদের নেগোসিয়েশনের জায়গাটা আরও শক্ত হয়েছে।
পূর্বকোণ/রাকিব/পারভেজ

















