চট্টগ্রাম শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

সর্বশেষ:

সরকারি চাকরিতে শূন্যপদ ৪ লাখ ৬৮ হাজার

সরকারি চাকরিতে শূন্যপদ ৪ লাখ ৬৮ হাজার

অনলাইন ডেস্ক

১৬ এপ্রিল, ২০২৬ | ২:৩৫ অপরাহ্ণ

দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর মিলিয়ে বর্তমানে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি শূন্য পদ রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে তথ্য দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।

 

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য ছিল।

 

এই শূন্যপদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির, অর্থাৎ প্রথম থেকে নবম গ্রেডে খালি রয়েছে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি পদ। দ্বিতীয় শ্রেণির, অর্থাৎ দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেডে শূন্যপদ ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি।

 

এ ছাড়া ত্রয়োদশ থেকে ষোড়শ গ্রেডে শূন্য পদ রয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি, সপ্তদশ থেকে বিংশতম গ্রেডে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি এবং অন্যান্য ৮ হাজার ১৩৬টি পদ শূন্য।

 

এসব শূন্য পদ পূরণে ছয় মাস, এক বছর ও পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার কথা সংসদকে জানান প্রতিমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, ৬ মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৮৭৯টি, ১ বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৯টি এবং ৫ বছরের মধ্যে ৩ হাজার ১১০টি শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

 

আবদুল বারী বলেন, কর্মপরিকল্পনায় বর্ণিত ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পাঁচ লাখ কর্মচারী নিয়োগ’ বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা এবং শূন্য পদে নিয়োগের তথ্য পাঠাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হিসাবে বিবেচনা করা হবে।”

 

তিনি বলেন, “কেউ যাতে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত না হয়, সেটাও নিশ্চিত করা হবে। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ও রোধ হবে।”

 

নূরুল ইসলামের আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৯৩ শতাংশ পদ মেধাভিত্তিক।

 

বাকি পদগুলোর মধ্যে ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত আছে।

 

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে আবদুল বারী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৬ বছরে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়, ৩৯ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় এবং ৫৬৪ জনকে ওএসডি করা হয়।

 

তিনি বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগের সময় বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি দলীয়করণের বিষয়ে দুদকসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনুসন্ধান ও তদন্ত করছে। তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ প্রাপ্তির পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট