চার দশক ধরে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা সেই ফুটবল এবার উঠছে নিলামে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়াগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ দুই ঐতিহাসিক গোলের জন্ম হয়েছিল যে বলে, এবার তার দাম উঠতে পারে প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। জীর্ণ চামড়া আর বাতাসহীন সেই বলটির আর মাঠে গড়ানোর সামর্থ্য নেই, কিন্তু ফুটবল ইতিহাসে এর মূল্য যেন দিন দিন আরও বাড়ছে।
২১ আগস্ট শুরু হয়ে ২৩ আগস্ট শেষ হবে নিলাম। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হেরিটেজ অকশনসের প্রত্যাশা, নিলামে বলটির দাম অন্তত এক কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২৫ কোটি টাকার সমান। ফলে চার দশক পরও ম্যারাডোনার সেই ‘ঐতিহাসিক বল’ নতুন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। নিলামকারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিলাম প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ অকশনস।
এই বলটিই ব্যবহার করা হয়েছিল ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচে। সেদিন প্রথমে হাত দিয়ে করা বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল, এরপর মাঝমাঠ থেকে একক নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডের একের পর এক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে করা ইতিহাসখ্যাত ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’, দুটি গোলই হয়েছিল এই বল থেকে। হেরিটেজ অকশনসের ক্রীড়া বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যান ইমলার সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় বলগুলোর মধ্যে এটি সবার ওপরে।’
ম্যারাডোনার স্মারকের বাজারমূল্য আগেও বিস্ময় তৈরি করেছে। ২০২২ সালে ওই একই ম্যাচে তার পরা নীল-সাদা জার্সি ৯ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছিল। দীর্ঘ ৩৬ বছর জার্সিটি নিজের কাছে রেখেছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক মিডফিল্ডার স্টিভ হজ। পরে ব্রিটিশ নিলাম প্রতিষ্ঠান সদবিস সেটি বিক্রি করে। যদিও ক্রেতার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, বিভিন্ন প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়, সেটি কিনেছিলেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।
এবার সেই রেকর্ডকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে ‘হ্যান্ড অব গড’-এর বলটি। ম্যাচের রেফারি তিউনিসিয়ার আলি বিন নাসের দীর্ঘদিন এটি নিজের কাছে সংরক্ষণ করেছিলেন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ চলাকালে প্রথমবার নিলামে উঠেছিল বলটি। তখন এক অজ্ঞাতপরিচয় ক্রেতা ২৩ লাখ ৭০ হাজার ডলারে এটি কিনে নেন। সেই সময় এটিই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দামি বিক্রি হওয়া ফুটবল।
পূর্বকোণ/কিরণ/পারভেজ















