চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

রাতেও মিলবে সূর্যের আলো, মহাকাশে বসবে ৫০ হাজার আয়না

রাতেও মিলবে সূর্যের আলো, মহাকাশে বসবে ৫০ হাজার আয়না

অনলাইন ডেস্ক

৫ নভেম্বর, ২০২৬ | ৭:৫২ অপরাহ্ণ

রাতের অন্ধকার দূর করে কৃত্রিম উপায়ে সূর্যের আলো ছড়াতে মহাকাশে ৫০ হাজার আয়নাযুক্ত স্যাটেলাইট ওড়ানোর পরিকল্পনা করছে মার্কিন স্টার্টআপ ‘রিফ্লেক্ট অরবিটাল’। তবে পরিবেশের ভারসাম্য ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির স্বার্থে এই মহাকাশীয় আয়না প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করছেন বিশ্বজুড়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে চিরতরে নষ্ট হতে পারে রাতের আকাশের স্বাভাবিক রূপ।
 
এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাতেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি দুর্যোগকবলিত এলাকায় আলো সরবরাহ এবং উদ্ধার অভিযানেও ব্যবহার করা যাবে এই প্রযুক্তি।
 
এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ভারতের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের সঙ্গে দুটি রকেট উৎক্ষেপণের চুক্তি করেছে রিফ্লেক্ট অরবিটাল। তবে উচ্চাভিলাষী এ পরিকল্পনা নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে রাতের আকাশের স্বাভাবিক অন্ধকার ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
 
 
তবে বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, কৃত্রিম এই আলো পৃথিবীর পরিবেশ ও জীবজগতের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলবে। ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরির (ইএসও) তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিত ৫০ হাজার উপগ্রহ কক্ষপথে স্থাপন করা হলে সামগ্রিকভাবে রাতের আকাশের উজ্জ্বলতা বর্তমানের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেড়ে যেতে পারে।
 
একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ৫৪ মিটার আয়নাযুক্ত উপগ্রহ থেকে প্রতিফলিত আলো চাঁদের আলোর চেয়ে ৪০ গুণ বেশি উজ্জ্বল হতে পারে। এতে ভূপৃষ্ঠ থেকে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কঠিন হয়ে পড়বে।
 
 
তবে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী বেন নওয়াক এসব উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তার মতে, নতুন প্রযুক্তি নিয়ে মানুষের ভয় থাকাটাই স্বাভাবিক।
 
গত ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশাল ফ্লাডলাইট ব্যবহার করে প্রযুক্তিটির পরীক্ষা চালায় প্রতিষ্ঠানটি। এখনো তাদের কোনো উপগ্রহ মহাকাশে নেই। তবে ভারতের স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের সঙ্গে প্রথম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে তারা।
 
প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিদ গাসপার বাকোসের আশঙ্কা, এই উদ্যোগ ভূপৃষ্ঠ থেকে মহাকাশ পর্যবেক্ষণের অবসান ঘটাতে পারে। অন্যদিকে আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মিশেল উটেনের প্রশ্ন, রাতের আকাশের মালিক কে? তার মতে, রাতের আকাশ দেখতে কেমন হবে, সে বিষয়ে মানুষের মতামত দেওয়ার অধিকার থাকা উচিত।
 
পূর্বকোণ/মিফতা

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট