চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

ফ্রান্সে আজ মহাবিক্ষোভ, নিরাপত্তায় ৭০ হাজার পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক

৫ নভেম্বর, ২০২৬ | ৩:০২ অপরাহ্ণ

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের প্রতিবাদে ফ্রান্সে আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এতে প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী জেন্ডারম সদস্য মোতায়েন করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।

 

তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভির তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত আন্তঃইউনিয়ন জোটের ধারণা, প্যারিসের বাইরে বিভিন্ন এলাকায় ৫ থেকে ৭ লাখ মানুষ বিক্ষোভে যোগ দিতে পারেন। অন্যদিকে রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজারে পৌঁছাতে পারে। 

 

কর্মসূচিতে শ্রমিক, সরকারি চাকরিজীবী, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সদস্য এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে বেতন বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই আন্দোলনের সূচনা হয়।

 

বিক্ষোভ পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, গত ৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভের আদলেই এবার নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২৬টি সাঁজোয়া যান, প্রায় ১৫টি জলকামান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট বিআরআই, রেইড ও জিআইজিএনের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিক্ষোভকারীদের নিরাপদে চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করাই এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে শহরের কেন্দ্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে।

 

প্যারিসে মিছিলের রুট নিয়ে বিতর্ক

রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভের মিছিল কোন পথে যাবে, তা নিয়ে আয়োজক ও পুলিশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। পুলিশের প্রস্তাবিত রুটের বিরোধিতা করে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন আয়োজকেরা। তবে প্রশাসনিক আদালত পুলিশের নির্ধারিত পথই বহাল রেখেছেন।

 

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক থেকে প্লাস দ্য লা নাসিওঁ পর্যন্ত মিছিল করবেন বিক্ষোভকারীরা। এর আগে শ্রমিক ইউনিয়ন ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো প্লাস দ্য লা বাস্তিল থেকে জাতীয় পরিষদের কাছাকাছি প্লাস দ্য লা কনকর্ড পর্যন্ত মিছিল করার প্রস্তাব দিয়েছিল।

 

তবে রাজধানীতে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং গত ১৭ অক্টোবরের অস্থিরতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ওই পথে মিছিলের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। পরে বিকল্প পথ নির্ধারণ করা হয়।

 

এদিকে বিক্ষোভের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে ধর্মঘটের প্রভাব পড়তে পারে দেশটির পরিবহণব্যবস্থায়। ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসএনসিএফ জানিয়েছে, আঞ্চলিক ট্রেন চলাচলে মাঝারি থেকে গুরুতর বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে। প্যারিসের আশপাশের কয়েকটি শহরতলির রেলপথেও যাত্রীদের ভোগান্তি হতে পারে।

 

তবে দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও উচ্চগতির টিজিভি ট্রেনের প্রতি ১০টির মধ্যে একটি বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

পূর্বকোণ/পল্লবী

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট