যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমে যাওয়ার খবরও বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব ফেলেছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল-দুই ধরনের দামই বেড়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ১০ মিনিটের দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১০৪ ডলার ৪২ সেন্টে দাঁড়ায়।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৫০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯৬ ডলার ৫৯ সেন্টে পৌঁছায়। এর আগের কার্যদিবসে ব্রেন্টের দাম প্রায় চার সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।
ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদের কারণে তখন তেলের বাজারে দরপতন ঘটে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ দলটির হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিও জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। একদিকে ইরানে সামরিক অভিযান চলছে, অন্যদিকে বড় ধরনের সংঘাত আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেই বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে ওয়াশিংটন।
ফিলিপ নোভার বাজার বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান প্রিয়াঙ্কা সচদেবা বলেন, অক্টোবরে তেলের দামে বড় উল্লম্ফনের পর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ কমিয়ে আনা স্বাভাবিক। তবে হরমুজ প্রণালি ঘিরে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এখনো রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত কমে যাওয়ার তথ্যও দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ৩০ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ৫২ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল কমেছে। অথচ রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া বিশ্লেষকেরা ওই সময়ে গড়ে ৮ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল মজুত বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের মজুত বেড়েছে ১৪ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল। অন্যদিকে ডিজেলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির মজুত কমেছে ১১ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) আনুষ্ঠানিক মজুত প্রতিবেদন বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় প্রকাশের কথা রয়েছে। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশটির জ্বালানি মজুতের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
পূর্বকোণ/ইবনুর


















