চট্টগ্রাম বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬

মন্তব্য প্রতিবেদন

ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধাক্কা, তেল আবিবে ক্ষমতার অনিশ্চয়তা- ইরানের বিরুদ্ধে কি নতুন যুদ্ধ?

মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পথে; নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় ফেরা অনিশ্চিত, আর ইরান প্রশ্নে নতুন সামরিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় মধ্যপ্রাচ্য

ডা. ম. রমিজউদ্দিন চৌধুরী, সম্পাদক

৪ নভেম্বর, ২০২৬ | ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে একই সময়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কার মুখে। ইসরায়েলে নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সমীকরণ অনিশ্চিত। অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এই তিনটি ঘটনার পরিণতি শুধু ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা নির্ধারণ করতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং বিশ্ব অর্থনীতির পরবর্তী গতিপথ।
 
ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের জন্য দ্বিমুখী পরাজয়ের বার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথে এগিয়ে রয়েছে। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইওর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে রিপাবলিকানদের আসন ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদেও তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সব আসনের গণনা ও চূড়ান্ত ফল ঘোষণা এখনো শেষ হয়নি।
 
এই ফলাফল ট্রাম্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সতর্কবার্তা। নির্বাচনী প্রচারে তিনি নিজেই ভোটকে তাঁর নেতৃত্বের প্রতি জনসমর্থনের পরীক্ষা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। ফলে ফলাফলকে শুধু কংগ্রেসের আসন পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি তাঁর প্রশাসনের অর্থনীতি, শুল্কনীতি, অভিবাসন এবং ইরান যুদ্ধের প্রতি ভোটারদের মনোভাবেরও প্রতিফলন।
 
ডেমোক্র্যাটরা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি হবে। প্রতিনিধি পরিষদের তদন্ত কমিটি প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, যুদ্ধের ব্যয় ও নীতিনির্ধারণ নিয়ে শুনানি করতে পারবে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ তাদের প্রেসিডেন্টের মনোনীত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বিচারপতিদের নিয়োগ আটকে দেওয়ার ক্ষমতা দেবে। এমনকি প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার রাজনৈতিক চাপও বাড়তে পারে।
 
তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেই ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা শেষ হয়ে যাবে না। সামরিক অভিযান ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের হাতে যথেষ্ট সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। ফলে ডেমোক্র্যাটদের বিজয় ইরানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সামরিক অভিযান বন্ধ করে দেবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। বরং যুদ্ধের অর্থায়ন, সামরিক ব্যয় এবং প্রশাসনের জবাবদিহি নিয়ে ওয়াশিংটনে সংঘাত বাড়বে।
 
 
নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় ফেরার অঙ্ক
ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। নির্বাচনের ফলাফলে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরের আসন ৪৮। অন্যদিকে, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন।
 
এই সমীকরণে আইজেনকটের সামনে সরকার গঠনের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে তাঁর শিবির ৬৭ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে। কিন্তু ইসরায়েলের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আরব দলগুলোর সমর্থন গ্রহণ করা সহজ নয়। নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার বিরোধিতা করে বিরোধী শিবিরের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছেন।
 
অন্যদিকে, নেতানিয়াহু বিরোধী দলের সদস্যদের নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করতে পারেন। জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে আইজেনকটের জন্য নেতানিয়াহুর সঙ্গে একই সরকারে অংশ নেওয়া রাজনৈতিকভাবে কঠিন হবে। শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে ইসরায়েলে আবারও নির্বাচন হতে পারে। তত দিন নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
 
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শুধু ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রশ্ন নয়। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ—সবকিছুই নতুন সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে।
 
 
ইরান: ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বিপজ্জনক অনিশ্চয়তা এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত। ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষ, পাল্টা হামলা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে রেখেছে।
 
৩ নভেম্বরের সর্বশেষ পরিস্থিতিতে রয়টার্স জানিয়েছে, কাতারসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চললেও দুই পক্ষের অবস্থানের ব্যবধান এখনো অনেক। তেহরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান এবং জব্দ করা অর্থ ছাড়ের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা নিয়ে কঠোর শর্ত আরোপ করতে চাইছে।
 
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কেশম দ্বীপে সীমিত সামরিক হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। ইরানও পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, নতুন আক্রমণ হলে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ তাদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
 
এখানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষ হারালে ট্রাম্পের জন্য দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিচালনা রাজনৈতিকভাবে আরও কঠিন হবে। যুদ্ধের ব্যয়, জ্বালানি মূল্য এবং মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধী দলের চাপ বাড়বে। তবে রাজনৈতিক চাপের মুখে ট্রাম্প সমঝোতার পথে যাবেন, নাকি শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
 
একটি সম্ভাবনা হলো, নির্বাচনের পর ট্রাম্প কূটনৈতিক সমঝোতার জন্য নতুন উদ্যোগ নেবেন। অন্য সম্ভাবনা হলো, ইরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়িয়ে আলোচনার টেবিলে তেহরানকে আরও দুর্বল অবস্থানে আনতে চাইবেন। দ্বিতীয় পথটি বেছে নিলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
 
 
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শক্তির সমীকরণ
 
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাব এখন উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে নিরাপত্তা আলোচনা চললেও ইয়েমেনে হুথিদের তৎপরতা এবং লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। উপসাগরীয় দেশগুলো একদিকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্যদিকে বৃহত্তর যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে।
 
হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কেন্দ্র। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়ে যায়। এখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হবে। তেলের দাম বাড়বে, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি হবে।
 
ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠনের প্রশ্নটিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। আইজেনকট ক্ষমতায় এলে নেতানিয়াহুর তুলনায় ইরান ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হবে। তবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা কাঠামো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য খুব বেশি নয়। ফলে নতুন সরকার এলেই ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের নাটকীয় পরিবর্তন ঘটবে, এমনটা ধরে নেওয়া যায় না।
 
আরেকটি মৌলিক প্রশ্ন হলো ফিলিস্তিন। গাজায় দীর্ঘস্থায়ী সংকট, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার উপেক্ষা করে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব স্বীকার করতে হবে। অন্যথায় সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করলেও সংঘাতের মূল কারণ থেকে যাবে।
 
 
বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা?
 
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বাংলাদেশের জন্যও সরাসরি উদ্বেগের বিষয়। দেশের জ্বালানি আমদানির ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, পরিবহন ও উৎপাদন খরচ এবং মূল্যস্ফীতি—সবকিছুই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের সঙ্গে সম্পর্কিত। হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশকে বাড়তি আমদানি ব্যয় বহন করতে হবে।
 
এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীর নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান। আঞ্চলিক যুদ্ধ বিস্তৃত হলে তাঁদের জীবন, আয় ও দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর সক্ষমতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই বাংলাদেশের কূটনীতিতে সংঘাত প্রশমন, প্রবাসীদের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
 
বাংলাদেশের উচিত জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে যুদ্ধবিরতি, কূটনৈতিক আলোচনা এবং ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে অবস্থান আরও জোরালো করা। একই সঙ্গে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়ে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
 
 
যুদ্ধ নয়, সমঝোতাই শেষ কথা
 
ওয়াশিংটনে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য দ্বৈত বিজয় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন অনিশ্চিত। আর ইরানের সঙ্গে সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সামরিক শক্তি ও কূটনৈতিক সমঝোতার মধ্যকার দ্বন্দ্বের ওপর।
 
তবে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না। ইরানকে সম্পূর্ণ কোণঠাসা করা, ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে একমাত্র বিবেচনা হিসেবে দেখা কিংবা ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্রীয় অধিকার উপেক্ষা করে কোনো টেকসই আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
 
ট্রাম্পের সামনে এখন শুধু ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রশ্ন নয়; বরং এমন একটি সমঝোতা তৈরির সুযোগ রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান করবে।
 
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি তাই শুধু কে ক্ষমতায় থাকবেন, কে নির্বাচনে জিতবেন বা কে সামরিকভাবে শক্তিশালী—তা নয়। প্রশ্ন হলো, এই অঞ্চলের মানুষ আর কত দিন যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার মূল্য দেবে? ওয়াশিংটন, তেল আবিব ও তেহরানের নেতৃত্ব যদি এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী সংকটের জন্য বিশ্বকে আবারও প্রস্তুত থাকতে হবে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট