চট্টগ্রাম সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের বিচার বিভাগের অভূতপূর্ব হস্তক্ষেপ

মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের বিচার বিভাগের অভূতপূর্ব হস্তক্ষেপ

অনলাইন ডেক্স

২ নভেম্বর, ২০২৬ | ১০:০৩ অপরাহ্ণ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে দশকের পর দশক ধরে চলে আসা ঐতিহ্য ভেঙেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিচার বিভাগ। আইন প্রয়োগের ক্ষমতা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার নীতিকে পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগের এই জোরালো অংশগ্রহণ দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
 
সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২০ হাজার ভোটারের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট বাতিল করার আবেদন জানিয়েছে বিচার বিভাগ। বিভাগটির দাবি, এসব ভোটারের অনেকে মার্কিন নাগরিক নন। পাশাপাশি, এ সংক্রান্ত একটি ফৌজদারি তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রও তলব করা হয়েছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ এই হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, ভোট বাতিলের কোনো আইনি এখতিয়ার বিচার বিভাগের নেই এবং অনাগরিকদের ভোট দেওয়া রোধে তারা আগেই যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে।
 
অন্যদিকে, আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান এবং একই নামের এক স্বতন্ত্র প্রার্থীকে কেন্দ্র করে একটি ফৌজদারি তদন্ত জোরদার করেছে বিচার বিভাগ। স্বতন্ত্র প্রার্থীটি ভোটারদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখাই এর লক্ষ্য। এমনকি ড্যান সুলিভান অল্প ব্যবধানে পরাজিত হলে ফলাফল অনুমোদনের প্রক্রিয়া আটকে রাখতে আদালতের কাছে আবেদনও করেছিল বিচার বিভাগ, যা শেষ পর্যন্ত একজন ফেডারেল বিচারক খারিজ করে দিয়েছেন।
 
এখন পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়া ও আলাস্কার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের করা মামলাগুলো ফেডারেল আদালতে খারিজ হয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও, ভোট গণনা এবং ফলাফল অনুমোদনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে বিচার বিভাগের নগ্ন হস্তক্ষেপের প্রবণতা নতুন এক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আদালতের প্রাথমিক ধাক্কা খাওয়ার পরও আলাস্কার মামলায় ফেডারেল রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বিচার বিভাগ।
 
সমালোচকদের মতে, বিচার বিভাগের এই ধরনের ভূমিকা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে জনমনে সন্দেহ ও অনাস্থা তৈরির অপচেষ্টাকেই ত্বরান্বিত করছে। ‘রুল অব ল প্রজেক্টের’ প্রতিষ্ঠাতা মার্ক ব্লুমবার্গ মন্তব্য করেছেন, অতীতে যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল, বর্তমান প্রশাসন সেই কাজে প্রভাব বিস্তারের জন্যই বিচার বিভাগকে ব্যবহার করছে।
 
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ দাবি করেছেন যে বিচার বিভাগের এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং এর একমাত্র উদ্দেশ্য ভোটের স্বচ্ছতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা। বিভাগটির মুখপাত্র কিয়ার্স্টেন পেলসও জানিয়েছেন যে তারা কোনো রাজনৈতিক শিবিরকে সহায়তা করছেন না, বরং কেবল আইন প্রয়োগ করছেন।
 
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর নিজস্ব। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অব্যাহত অভিযোগ, ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত রাজ্যগুলো অনাগরিকদের ভোট ঠেকানোর ক্ষেত্রে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের অসংখ্য মামলা ব্যর্থ হলেও, এ বছর ট্রাম্পপন্থি সংগঠনগুলোকে আইনি লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে না; কারণ খোদ বিচার বিভাগই এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে।
 
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে মার্কিন বিচার বিভাগের নির্বাচনী হস্তক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য থাকত সংখ্যালঘু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের এই মধ্যবর্তী নির্বাচন সেই চিরাচরিত নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত এক নতুন রাজনৈতিক চিত্র তুলে ধরছে।
 
তথ্যসূত্র রয়টার্স
 
পূর্বকোণ/মেহেদী/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট