জার্মানির প্রধান শহরগুলোতে সংঘটিত সাম্প্রতিক নৈরাজ্য ও ভাঙচুরের ঘটনার জের ধরে অভিবাসী জনগোষ্ঠী ও বামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর ওপর দায় চাপাচ্ছেন দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা। একই সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে ডানপন্থি দলগুলোও সরব হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি বার্লিনসহ দেশটির বিভিন্ন প্রধান শহরে ‘জেন-জি’ বিক্ষোভ কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে দেশের আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে সহিংসতার মাত্রা চরমে পৌঁছায়। সেখানকার বিভিন্ন বিপণিবিতানে ভাঙচুর ও প্রকাশ্যে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। সহিংসতায় অন্তত ১৭টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার মধ্যে ৫টিতে সরাসরি লুটপাট চালানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ড স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘বিল্ড’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, মূলত বামপন্থি উগ্রবাদী গোষ্ঠী এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের সুযোগসন্ধানী চক্র এই অস্থিরতার পেছনে কাজ করেছে।
অন্যদিকে হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রায় ১ থেকে দেড় হাজার দাঙ্গাকারীকে সামাল দিতে গিয়ে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বয়স ১৩ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সহিংসতায় জড়ানো তরুণদের একটি বড় অংশই অভিবাসী পরিবারের সন্তান।” একই সুর শোনা গেছে কট্টর ডানপন্থি দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি)-র কণ্ঠেও; তারা দেশটিতে অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন নীতিকেই এই সার্বিক বিশৃঙ্খলার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
জার্মানির মতো উন্নত ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশে জেন-জি বিক্ষোভ থেকে এই ধরনের সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা দেশটির আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সুরক্ষায় নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে অভিবাসীদের সরাসরি দায়ী করার ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ অভিবাসন নীতি ও সামাজিক ঐক্য নিয়ে নতুন করে বড় বিতর্ক শুরু হলো।
পূর্বকোণ/ঐশী


















