চট্টগ্রাম সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬: সংকটের মুখে কানাডার অর্থনীতি ও বাণিজ্য

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬: সংকটের মুখে কানাডার অর্থনীতি ও বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২ নভেম্বর, ২০২৬ | ১:৫১ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সংকটের মুখে পড়তে পারে কানাডার অর্থনীতি ও বাণিজ্য। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লড়াইয়ের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর বাণিজ্য নীতি।

 

বাণিজ্যিক এই ইস্যুতে সাধারণ কানাডীয়দের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। অ্যাঙ্গাস রিড ইনস্টিটিউটের সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর জরিপ অনুযায়ী, দেশটির ৭৩ শতাংশ নাগরিক মনে করেন ওয়াশিংটনের সঙ্গে দরকষাকষিতে কানাডার নমনীয় হওয়া বা অপ্রয়োজনীয় ছাড় দেওয়া একদমই উচিত নয়।

 

তবে বাণিজ্য সংঘাতের অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হচ্ছে কানাডাকে। সংসদীয় বাজেট কর্মকর্তার (পিবিও) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মার্কিন শুল্ক নীতির কারণে কানাডীয় পণ্যের ওপর কার্যকর গড় শুল্ক হার ৫.৩ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশের প্রকৃত জিডিপি ১.৪ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে এবং প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ কাজ হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

 

অটোমোবাইল, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, কৃষি ও জ্বালানি খাত এই মার্কিন শুল্কের সরাসরি ধাক্কা সামলাচ্ছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় যেমন প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ কমছে, তেমনি ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে জয়ী হলে ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির ওপর ওয়াশিংটনের নজরদারি কিছুটা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হলেও, শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার হবে কি না—তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।

 

সংক্ষেপে বলতে গেলে, ভোটের ফলাফলের চেয়েও পরবর্তী সময়ে ওয়াশিংটন কী সিদ্ধান্ত নেয়—তার ওপরই ঝুলছে কানাডার ভবিষ্যৎ। দুই দেশের মধ্যে একটি ফলপ্রসূ বাণিজ্যিক চুক্তি বাস্তবায়িত হলে কানাডার রপ্তানি খাত ও নতুন বিনিয়োগে স্বস্তি ফিরবে। তবে বর্তমান এই শুল্কযুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদী রূপ নিলে দেশটির সামগ্রিক জিডিপি, কর্মসংস্থান ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় চরম হুমকির মুখে পড়বে।

পূর্বকোণ/ঐশী

কোনো সাজেশন পাওয়া যায়নি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট