চট্টগ্রাম সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

যুদ্ধের শব্দ ও দূষণে বিপর্যস্ত কৃষ্ণসাগর, প্রাণ গেল ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের

অনলাইন ডেস্ক

২ নভেম্বর, ২০২৬ | ১:৫৩ অপরাহ্ণ

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে কৃষ্ণসাগরে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ডলফিন মারা গেছে। যুদ্ধের বিস্ফোরণ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও সামরিক সোনারের শব্দে দিশেহারা হয়ে পড়ছে ডলফিনগুলো। এতে তাদের স্বাভাবিক চলাচল, যোগাযোগ ও খাদ্য সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে।

 

দক্ষিণ ইউক্রেনের তুজলি লাগুনস ন্যাশনাল পার্কের প্রধান গবেষক ইভান রুসেভ আল জাজিরাকে জানান, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৃষ্ণসাগরে বিপুলসংখ্যক ডলফিনের মৃত্যু হয়েছে। সামরিক প্রযুক্তির শব্দের কারণে ডলফিনের ইকোলোকেশন বা প্রতিধ্বনির সাহায্যে আশপাশের অবস্থান শনাক্ত করার ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে তারা শিকার ধরতে না পেরে দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং অনেক সময় মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে।

 

এ ছাড়া যুদ্ধের কারণে সমুদ্রের পানিতে রাসায়নিক পদার্থ, জ্বালানি, মাইক্রোপ্লাস্টিক ও কৃষিজমির ক্ষতিকর উপাদান ছড়িয়ে পড়ছে। এসব দূষক ডলফিনের শরীরে জমে তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করছে। পাশাপাশি শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।

 

গবেষক রুসেভ জানান, ডলফিনের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া হলো ইকোলোকেশন। প্রতিধ্বনির সাহায্যে আশপাশের পরিবেশ, শিকার ও চলাচলের পথ শনাক্ত করে তারা। কিন্তু সামরিক প্রযুক্তির শব্দতরঙ্গ এ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে খাবার খোঁজা, যোগাযোগ এবং নিরাপদে চলাচল করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

 

তিনি বলেন, পর্যাপ্ত খাবার না পেলে ডলফিনের শরীরের ওজন দ্রুত কমে যায়। তখন শক্তির চাহিদা মেটাতে তারা শরীরে সঞ্চিত চর্বি বা ব্লাবার ব্যবহার করে। কিন্তু কৃষ্ণসাগরের পানিতে জমে থাকা বিভিন্ন দূষক পদার্থের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে। বর্জ্য পানি, কৃষিজমির রাসায়নিক, মাইক্রোপ্লাস্টিক ও অ্যান্টিবায়োটিকের মতো ক্ষতিকর উপাদান ডলফিনের শরীরে জমা হচ্ছে। এতে তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।

 

যুদ্ধের প্রভাবে কৃষ্ণসাগরের সামুদ্রিক পরিবেশেও দূষণ বেড়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত ড্রোন এবং ডুবে যাওয়া সামরিক সরঞ্জাম থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক ও জ্বালানি পানিতে মিশছে। অন্যদিকে, মালেট ও ব্লুফিশসহ কয়েকটি মাছের প্রজাতির সংখ্যা কমে যাওয়ায় সামুদ্রিক প্রাণীদের খাদ্যসংকটও বাড়ছে।

 

যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে সামুদ্রিক মাছ ও পরিযায়ী পাখিদের ওপরও। বিস্ফোরণে মাছ মারা যাওয়া এবং শব্দদূষণের কারণে পাখিদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে।

 

এদিকে কৃষ্ণসাগরের উপকূলে প্রায়ই মৃত ও ক্ষতবিক্ষত ডলফিনের দেহ ভেসে আসছে। গত আগস্টে ওদেসা শহরের সৈকতে ছেলেকে নিয়ে হাঁটার সময় একটি পচনশীল ডলফিনের মৃতদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা তেতিয়ানা স্মোলচেঙ্কো। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, দৃশ্যটি দেখে তিনি ও তাঁর ছেলে দুজনেই কেঁদে ফেলেছিলেন।

পূর্বকোণ/পল্লবী

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট