রামলীলা ময়দানের ভেতরে যত মানুষ, বাইরে তার চেয়েও দ্বিগুণ। মোদিবিরোধী জোটের মহাসমাবেশে তৈরি হয় এমন অভূতপূর্ব দৃশ্য। নেতাদের মাত্র এক কিলোমিটারের পথ পেরোতেই লেগে যায় দুই ঘণ্টার বেশি সময়। ময়দানে ঠাঁই না হওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ ও ফটকগুলো বন্ধ করে দেয় দিল্লি পুলিশ, আর পুরো এলাকাজুড়ে নামানো হয় ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য। পুরো এলাকা জুড়ে উড়ছিলো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পতাকা ও ভারতের জাতীয় পতাকা।
সম্মেলন এলাকা ও তার আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। শুধু রামলীলা ময়দানের ভেতরে ও বাইরে চার হাজার এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় আরও ছয় হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। রবিবার (০১ নভেম্বর) ছুটির দিন হওয়ায় কনট প্লেস ও লুটিয়েনস দিল্লির বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সব অফিস বন্ধ ছিল এবং যানবাহন চলাচলও রাখা হয় সীমিত। পুরা এলাকা জুড়ে ছিল বিরোধীদলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড়।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে আগেই এক বিবৃতি দিয়ে রামলীলা ময়দানের এই বিক্ষোভ সমাবেশকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শনিবার রাতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে পুনরায় এই সমর্থনের কথা জানান। তবে সিজেপি নেতাদের বক্তব্য, যেহেতু তাঁরা একটি অরাজনৈতিক প্রেশার গ্রুপ, তাই কোনো রাজনৈতিক দলের সমাবেশে সশরীরে যোগ দেওয়া সমীচীন নয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিপকে জানান, সিজেপি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম এবং তাঁরা সেভাবেই অবস্থান ধরে রাখতে চান। তবে ‘ভোট চুরি’র বিরুদ্ধে এই আন্দোলনে তাঁদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। যারা ভোট চুরির প্রতিবাদে এবং জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন করছে, সিজেপি তাদের পাশে থাকবে। দলটির শীর্ষ নেতারা মিছিলে যোগ না দিলেও বহু তরুণ-তরুণীকে ‘তেলাপোকা’র প্রতীক সংবলিত পোস্টার হাতে মিছিলে হাঁটতে দেখা যায়।
এদিকে, ইন্ডিয়া জোটের এই সমাবেশ বানচালের জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশ নানামুখী চেষ্টা চালিয়েছিল। ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘চেম্বার অব ট্রেডার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র পক্ষ থেকে রাহুল গান্ধীকে চিঠি লিখে সমাবেশটি ১০ দিন পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। সংগঠনের নেতারা রাহুলের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্ব সেই অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
রামলীলা ময়দানে আসার পথে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, মিছিলে যোগদানকারীরা যেন কিছু কেনাকাটা করতে না পারেন এবং ব্যবসা বন্ধের দায় যেন বিরোধীদের ওপর চাপানো যায়, সে জন্য বিজেপিই জোর জবরদস্তি করে আশপাশের সব দোকান-বাজার বন্ধ করে দিয়েছে।
আজ ১ নভেম্বরের এই সমাবেশ পণ্ড করতে বিজেপিও চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখেনি। দলটির পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হয়েছিল যে, ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নিহত হওয়ার পর এই দিনে দিল্লিতে শিখবিরোধী দাঙ্গা হয়েছিল। তাই ওই দিনে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর মতো ন্যূনতম শিষ্টাচার কংগ্রেসের দেখানো উচিত। একই দিনে বিজেপির পক্ষ থেকে পশ্চিম দিল্লিতে নিহত শিখদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একটি পাল্টা মিছিল বের করা হয়। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেত্রী রেখা গুপ্ত এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী ওই মিছিলে নেতৃত্ব দেন।
পূর্বকোণ/মেহেদী/পারভেজ



















