চট্টগ্রাম বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

সৌদিকে সহায়তা করলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি হুতিদের

সৌদিকে সহায়তা করলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি হুতিদের

অনলাইন ডেস্ক

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৭:২৬ অপরাহ্ণ

সৌদি আরবের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করলে কিংবা লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালীর অবরোধ সরানোর চেষ্টা চালালে পশ্চিম এশিয়ায় থাকা সব মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি। মঙ্গলবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গোষ্ঠীটির সামরিক উপদেষ্টা আবেদ মোহাম্মদ আল-থাওর।

চলতি মাসে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরান-সমর্থিত হুতিরা। এর পরপরই হুতিদের ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামরিক সহায়তা চেয়ে আসছে সৌদি আরব।

সাক্ষাৎকারে হুতির সামরিক উপদেষ্টা বলেছেন, “আমেরিকা যদি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করার দুঃসাহস দেখায় কিংবা বাব আল-মানদেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তা হবে চরম সীমা লঙ্ঘন। আমরা এর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়ব।”

হুথিদের এই অবরোধ বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবকে বড় ধরনের বিপদে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের অংশ হিসেবে কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের পর রিয়াদের অর্থনীতি এমনিতেই চাপে রয়েছে। এর মাঝে হুতিদের অবরোধে সৌদির তেল রপ্তানি ব্যাপক ধাক্কা খেয়েছে।

এর আগে, লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী। সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন শত শত সৈন্য। পাশাপাশি হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গত কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কেঁপে ওঠে সৌদির রাজধানী রিয়াদ।

মার্কিন বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাহায্য চেয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গত জুলাইয়ে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইয়েমেনে সৌদি আরব শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি হুতিদের।

মার্কিন হস্তক্ষেপের বিষয়ে সাওর বলেন, “আমেরিকা যদি বিমান হামলা বা আকাশপথে সহায়তা দিয়ে সৌদি আরবের পক্ষ নেওয়ার মতো বাজি ধরে, তাহলে আমাদের আশপাশে থাকা যেকোনো মার্কিন স্বার্থকে আমরা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করব এবং কাউকেই ছাড় দেব না।” সেই সঙ্গে মার্কিন জাহাজের জন্য বাব আল-মানদেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ইয়েমেনের এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের চেয়ে বহু পুরোনো হলেও নতুন করে শুরু হওয়া লড়াই ওয়াশিংটন ও তেহরানের দুই মিত্রকে সামনাসামনি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

তবে ইরানের কাছ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন সাওর। তিনি বলেন, “ইরান আমাদের বন্ধু, মিত্র ও ভাইপ্রতিম দেশ। তবে তারা আমাদের পরিচালনা করে না। আমাদের সিদ্ধান্ত ও সার্বভৌমত্বে আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীন।”

এদিকে, ইয়েমেনের এই সংঘাত ভয়াবহ আকার ধারণ করায় নতুন করে গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে আগামী কয়েক মাসে ২ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মঙ্গলবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

হুতি উপদেষ্টা সাওর বলেছেন, “যতক্ষণ সৌদি আরব আমাদের দেশে হত্যাযজ্ঞ ও জনসাধারণের ওপর হামলা চালিয়ে যাবে, আমরাও লৌহমুষ্টিতে তার জবাব দিয়ে যাব। তেল খাত ও অর্থনৈতিক শিল্পে সৌদি আরবকে শায়েস্তা করার, শাস্তি এবং মাঠ থেকে ছিটকে দেওয়ার পর্যাপ্ত সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।”

সূত্র: এএফপি।

পূর্বকোণ/রাকিব/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট