পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে স্পেন ও আইসল্যান্ডে প্রস্তুত লাখো মানুষ। বিরল এই মহাজাগতিক দৃশ্যকে ঘিরে পর্যটক ও আকাশপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উন্মাদনা।
নিরাপদে গ্রহণ দেখার জন্য বিশেষ চশমা সঙ্গে নিয়ে মানুষ ছুটছেন এমন সব এলাকায়, যেখান থেকে পুরো গ্রহণ প্রত্যক্ষ করা যাবে।
সূর্যগ্রহণ নিয়ে মানুষের আগ্রহ নতুন নয়।ইতিহাসে হঠাৎ দিনের আকাশ অন্ধকার হয়ে যাওয়াকে কখনো অশুভ সংকেত, কখনো মহাজাগতিক সংঘাত, আবার কখনো ঐশ্বরিক শক্তির নিদর্শন হিসেবে দেখা হয়েছে। আধুনিক যুগের আকাশপ্রেমীরাও সেই রহস্যময় অনুভূতির সাক্ষী হতে চান।
স্পেনের বিজ্ঞানবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুয়ান ক্রুজ বলেন, ‘আশা করি, আজ রাতে জ্যোতির্পদার্থবিদদের একটি অসাধারণ প্রজন্মের সূচনা হবে। এটি সত্যিই বিশেষ একটি মুহূর্ত।
উত্তর স্পেন ও বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জের গ্রহণপথে প্রায় ৬০ লাখ দর্শনার্থী সমাগম হবে বলে আশা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে স্পেনে সূর্যগ্রহণের পরপরই সূর্যাস্ত হবে, ফলে মহাজাগতিক এই দৃশ্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
তবে একই সময়ে দেশটিতে দাবানলের ঝুঁকি বেশি থাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি চালানো হচ্ছে জনসচেতনতামূলক প্রচারও।
গ্রহণকে পর্যটনের সুযোগ হিসেবেও দেখছে স্পেন। উপকূলীয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় কমিয়ে তুলনামূলক কম পরিচিত অঞ্চলগুলোতে পর্যটকদের ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
ইবেরীয় উপদ্বীপে সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল ১৯১২ সালে। ২০২৭ সালের ২ আগস্ট আবারও এই অঞ্চলে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হবে। এরপর ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে দেখা যাবে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ। পরপর এসব মহাজাগতিক ঘটনার কারণে ‘আইবেরিয়ান এক্লিপস ট্রায়ো’ নিয়ে আগ্রহও বাড়ছে।
আইসল্যান্ডেও ‘গ্রহণ জ্বর’
প্রায় চার লাখ মানুষের দেশ আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিয়াভিকে কয়েক দিন ধরেই গ্রহণ দেখার চশমা বিক্রি হয়েছে। দেশটি প্রায় ৮০ হাজার দর্শনার্থীকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৪ মিনিটের দিকে আইসল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলে পূর্ণগ্রাস গ্রহণের পথ পৌঁছানোর কথা। এরপর চাঁদের ছায়া দ্রুত পূর্ব দিকে অগ্রসর হবে। পশ্চিমাঞ্চলে সর্বোচ্চ ২ মিনিট ১৩ সেকেন্ড পর্যন্ত পূর্ণগ্রাস দেখা যেতে পারে। তবে দেশটির বেশির ভাগ শহরে অন্ধকারের সময় হবে এর চেয়ে কম।
দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড়ের কারণে যানজটের আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। তাই গ্রহণ দেখতে আগ্রহীদের আগেভাগেই নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গ্রহণ ঘিরে সাংস্কৃতিক আয়োজনও থাকছে। রেইকিয়াভিকের দক্ষিণে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে ডিজে হিসেবে পরিবেশনের কথা ছিল আইসল্যান্ডের সংগীতশিল্পী বিয়র্কের।
মহাকাশ গবেষণাতেও গুরুত্ব পাচ্ছে ঘটনাটি। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা আইসল্যান্ড থেকে একটি উচ্চ-উড্ডয়নক্ষম ডব্লিউবি-৫৭ বিমান দিয়ে চাঁদের ছায়াকে অনুসরণ করার পরিকল্পনা করেছে। নাসার অর্থায়নে পরিচালিত কয়েকটি দল আবার বেলুন ওড়াবে, যাতে আকস্মিক অন্ধকার ও তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে, তা পর্যবেক্ষণ করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে আসা পর্যটক ক্রিস্টা কার্ন বলেন, পূর্ণগ্রাসের মুহূর্তটি তার কাছে ‘পুরো শরীরজুড়ে অনুভূত হওয়ার মতো’ একটি অভিজ্ঞতা হবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
পূর্বকোণ/রাকিব/আরআর















