ইসরায়েলের কারাগারে যেসব ফিলিস্তিনিদের বন্দি করা হয়েছে, তাদের বাহিরের চারপাশে পরিখা বা খাল খনন করে তাতে কুমির ছাড়ার প্রকল্প নিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার। ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজ খানিকটা অগ্রসরও হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রচলিত আইনে এতদিন কুমিরকে ‘সংরক্ষিত বন্যপ্রানী’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এই ক্যাটাগরির আওতায় যেসব বন্যপ্রাণী পড়ে, সেগুলোকে সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত চিড়িয়াখানা ব্যতীত অন্য কোথাও রাখার অনুমতি ছিল না।
তবে গতকাল ইসরায়েলের পরিবেশমন্ত্রী ইদিত সিলমান কুমিরকে ইসরায়েলের ‘সংরক্ষিত বন্যপ্রানী’ থেকে সরিয়ে দিয়ে ‘নিয়ন্ত্রিত বন্যপ্রাণী’ হিসেবে ক্যাটাগরিভুক্ত করেছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সম্প্রচার সংবাদমাধ্যম চ্যানেল সেভেন। এক বার্তায় ইসরায়েলের পরিবেশমন্ত্রী আরও বলেছেন, এখন থেকে চিড়িয়াখানার পাশাপাশি যে কোনো সরকারি সংস্থা বা দপ্তর তাদের ভবন অবকাঠামো কিংবা মালিকানাধীন জলাশয়ে কুমির রাখতে পারবেন।
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি নেতা ইতামার বেন-গিভর ৬ মাস আগে ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত ইসরায়েলি কারাগারগুলোর চারপাশে পরিখা খনন করে তাতে কুমির ছাড়ার প্রস্তাব পার্লামেন্টে উত্থাপন করেছিলেন; কিন্তু সে সময় আইনি বাধ্যবাধকতা এবং ইসরায়েলি পরিবেশ আন্দোলনর্কমীরা ছিলেন এটি বাস্তবায়নের পক্ষে সবচেয়ে বড় বাধা।
ইসরায়েলের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে চ্যানেল সেভেনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, “কর্মকর্তারা মনে করেন, ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত কারাগারগুলোর চারপাশে পরিখা খনন করে কুমির ছাড়া হলে একদিকে যেমন কারগারের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে প্রহরা বাবদ খরচও কমবে।”
সরকারে প্রাথমিক পরিকল্পনায় এক একটি অপরিণত কুমিরের জন্য ৮ হাজার ডলার এবং পরিণত কুমিরের জন্য ২০ হাজার ডলার বাজেট ধরা হয়েছে।
বর্তমানে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত কারাগারগুলোতে বন্দি আছেন প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জন ফিলিস্তিনি। এই কয়েদিদের মধ্যে শিশু এবং নারীরাও আছেন।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
পূর্বকোণ/রাকিব















