গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা ও গুলিবর্ষণে এক শিশুসহ অন্তত ৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
মঙ্গলবার অবরুদ্ধ এই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় চালানো এসব হামলায় আহত হয়েছে আরও বহু মানুষ। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় একজন নিহত আর দুটি শিশু আহত হয়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, তারা সেখানে হামাসের এক যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালায়।
এছাড়া গাজা শহরেরর পশ্চিমাংশে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর একটি তাঁবু শিবিরের কাছে ইসরায়েলের চালানো বিমান হামলায় ১ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়।
একই সময়ে খান ইউনিসে হওয়া তৃতীয় আরেকটি বিমান হামলায় আরো ১ জন নিহত ও আরও ৩ জন আহত হয়। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, এই দুটি হামলাও হামাসের যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছিল।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘পপুলার রেজিস্ট্যান্স কমিটিজ’ জানিয়েছে, খান ইউনিসে হওয়া দুটি হামলার একটিতে তাদের শীর্ষ নেতা ওয়াহিদ আবু সালেম নিহত হয়েছে।
পরবর্তীতে ওই দিনই, দক্ষিণ গাজার রাফা এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিবর্ষণে ১ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৯ জন আহত হয় বলে চিকিৎসা কর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, গাজা শহরের তেল আল-হাওয়া এলাকায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে ১ টি শিশুসহ ৩ জন নিহত হয়।
এর ফলে মঙ্গলবার গাজা জুড়ে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় অন্তত ৭ জনে।
নিহতদের মধ্যে মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি নামে একজন রয়েছেন, যিনি ফিলিস্তিনিদের সাহায্য দেওয়ায় নিয়োজিত মিসরীয় ত্রাণ কমিটিতে কর্মরত ছিলেন। তবে শেষ দুটি ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে, গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও ইহুদি রাষ্ট্রটির সামরিক বাহিনী গাজায় ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের দাবি, তাদের বাহিনীর জন্য হুমকিস্বরূপ বা ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলায় জড়িত যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই এসব সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে।
অপরদিকে হামাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিযুক্ত গাজা বিষয়ক বিশেষ দূত নিকোলে ম্লাদেনভ জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই এই চুক্তি লঙ্ঘন করছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আট মাস আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ১০৭০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে বড় অংশই বেসামরিক। বিপরীত দিকে চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে।
বর্তমানে গাজার ৬০ শতাংশের বেশি অঞ্চল ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে একটি ‘বাফার জোন’ বা সুরক্ষিত অঞ্চল বলে বর্ণনা করেছেন আর জানিয়েছেন, তারা গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না।
দীর্ঘদিন ধরে চলা ইসরায়েলের ভয়াবহ স্থল ও বিমান হামলায় এ পর্যন্ত গাজার ৭৩,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই এখন গাজার উপকূলীয় অঞ্চলের তাঁবুতে বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
পূর্বকোণ/রেহেনুমা















