মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা তৈরি করেছে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় বিশ্ববাজারে বড় পতন ঘটেছে সোনা ও রুপার দামে। এক দিন আগে মূল্যবান এই ধাতুর বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও নতুন এই ধাক্কায় ফের নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৯০৮ ডলার ৪৯ সেন্টে নেমেছে। এর আগের দিন সোমবার (২ নভেম্বর) সোনার দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। গত শুক্রবার এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামার পর বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন টালবাহানায় তা টিকেনি। পাশাপাশি, ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সোনার আগাম চুক্তির দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯১৭ ডলার ৯০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সোনার বাজারে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মনে করেন, সোনার বাজারকে শক্ত অবস্থানে ফিরতে হলে প্রতি আউন্স মূল্য ৪ হাজার ডলারের ওপরে উঠতে হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের দিকেও তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
এদিকে চাহিদা কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল। বার ও কয়েন আকারে সোনা কেনার চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় সংস্থাটি চলতি বছর সোনায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির পূর্বাভাস অর্ধেক কমিয়ে ২০০ মেট্রিক টনে নামিয়েছে, যা আগে ৪০০ মেট্রিক টন ছিল। তবে এর বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার পরিমাণ নিয়ে পূর্বাভাস কিছুটা বাড়িয়েছে তারা।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় ধাক্কা লেগেছে। মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪৯ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪২৫ ডলার ৫০ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৯৩৮ ডলার ৫০ সেন্ট হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার প্রভাব ও স্থানীয় মানদণ্ড অনুযায়ী দেশের বাজারে বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
অন্যদিকে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপা ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৯১৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ২১৬ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
পূর্বকোণ/এমএইচ/পারভেজ


















