চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ সময়ে দেশটিতে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৩৫ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ আয়ের পরিমাণ ছিল ৩০০ কোটি ডলার।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৭০৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। দেশটির পাশাপাশি তুরস্ক, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাজারেও রপ্তানি আয় বেড়েছে। এর মধ্যে তুরস্কে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে সর্বোচ্চ ৮২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। দেশটিতে রপ্তানি আয় হয়েছে ২৯ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
এ ছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি আয় বেড়েছে যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৫২ ও ১২ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ইউরোপের দেশ স্পেনেও দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পর বাংলাদেশের বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাজ্য ও জার্মানি। আলোচ্য চার মাসে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৭৪ কোটি ডলার এবং জার্মানিতে ১৫৭ কোটি ডলার।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ার প্রতিফলন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এই প্রবৃদ্ধি। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও পণ্যের মান, সময়মতো সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করায় বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৭৫ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই মাসে এ আয় ছিল ৬৭ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ।
অক্টোবরে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৯৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, কয়েকটি প্রতিযোগী দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এতে দেশটিতে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার বা এড়ানোর সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের (ইউএসটিআর) সঙ্গে আলোচনা চলছে।
রপ্তানি খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে পণ্যের মান উন্নয়ন, বাজার ও পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নতুন বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণ দেশের রপ্তানি আয়ের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে পারে।
পূর্বকোণ/পল্লবী


















