চট্টগ্রাম রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

তিন দিন পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট সচল

তিনদিন পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট সচল

অনলাইন ডেস্ক

২৫ অক্টোবর, ২০২৬ | ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ

তিন দিন বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি পুনরায় সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৮টা থেকে থেকে সচল হয়েছে ওয়েবসাইটটি। বাংলা‌দেশ ‌ব্যাংক পক্ষ থে‌কে এ তথ্য নি‌শ্চিত করা হ‌য়ে‌ছে। 
 
 
 
ওয়েবসাইট তৈরির বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখা হয়েছিল।
 
 
 
পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে সতর্কতা জারির পর বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশের কয়েকটি ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। নিরাপত্তাঝুঁকি যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পর ওয়েবসাইটগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়।
 
 
পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় শনাক্ত হওয়া দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা। সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে আক্রমণকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সার্ভারে দূর থেকে ক্ষতিকর কোড চালাতে এবং সার্ভারের ফাইল, ডেটাবেজ ও সংবেদনশীল তথ্যের নাগাল পেতে পারেন।
 
 
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি দেশের অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ভূমিসেবার ওয়েবসাইটেও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হয়।
 
 
 
সরকারের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট ২২ অক্টোবর জরুরি সতর্কতা জারি করে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্ভারে পিএইচপির ব্যবহার ও সংস্করণ যাচাই, নিরাপত্তা হালনাগাদ (প্যাচ) স্থাপন এবং অননুমোদিত প্রবেশের লক্ষণ পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা হালনাগাদ সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ সার্ভারের প্রবেশাধিকার সীমিত রাখারও পরামর্শ দেয়া হয়।
 
 
 
 
পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে উদ্বেগ শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝুঁকি মোকাবিলায় ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডের বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। যুক্তরাজ্যেও ৩২টি সরকারি ডিজিটাল সেবা অফলাইনে নেয়ার কথা দেশটির সাইবার নিরাপত্তামন্ত্রী জানিয়েছেন।
 
 
 
নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান উইজের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে যেসব ওয়েবসাইটের প্রোগ্রামিং ভাষা শনাক্ত করা যায়, তার প্রায় ৭০ শতাংশ পিএইচপিতে পরিচালিত। ফলে এ ভাষার নিরাপত্তা ত্রুটি ব্যাপকসংখ্যক ওয়েবসাইটের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে সব পিএইচপি-নির্ভর ওয়েবসাইটই আক্রান্ত—বিষয়টি এমন নয়। ব্যবহৃত সংস্করণ, নিরাপত্তা হালনাগাদ ও সার্ভারের কনফিগারেশনের ওপর প্রকৃত ঝুঁকি নির্ভর করে।
 
 
পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট রোববার সকাল ৮টা থেকে সচল হলেও নিরাপত্তা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
 
 
 
পূর্বকোণ/আদর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট