বাংলাদেশি ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্যের বিশ্ববাজার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার বাজারে প্রবেশ ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে ঢাকা। বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বিশ্বমানের ওষুধ বিশ্বের শতাধিক দেশে রপ্তানি হচ্ছে এবং ইন্দোনেশিয়ার বাজারেও এই ধারা নিশ্চিত করতে নিবন্ধনসহ অন্যান্য প্রক্রিয়াগত জটিলতা দূর করতে হবে। জাকার্তায় বাংলাদেশের ওষুধ পণ্যের একক প্রদর্শনী বা ‘সোলো এক্সিবিশন’ আয়োজনের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী।
দীর্ঘদিন পর পিটিএ আলোচনা পুনরুজ্জীবনের তাগিদ
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যকার ট্রেড এগ্রিমেন্ট বা পিটিএ চুক্তি নিয়ে এখন পর্যন্ত চার দফা বৈঠক হয়েছে। তবে তৈরি পোশাক খাতের শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে ২০২৩ সাল থেকেই প্রক্রিয়াটি স্থবির রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন, দুই দেশের টেক্সটাইল খাতে প্রতিযোগিতা থাকলেও পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান বের করা সম্ভব। আগামী ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনীর সাইডলাইনে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
জ্বালানি সহযোগিতা ও কৃষিপণ্য রপ্তানি সহজ করার উদ্যোগ
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে জ্বালানি ও কৃষি খাতের বাণিজ্যে গতি আনার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং বা এসপিএম টার্মিনাল পরিচালনার জন্য ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি পারতামিনার প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়টি তোলা হয়। পাশাপাশি দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এছাড়া ২০১৫ সাল থেকে আটকে থাকা বাংলাদেশি আলু রপ্তানির পথ সুগম করতে পরীক্ষাগার ও নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে পারস্পরিক পরীক্ষার ফলাফল স্বীকৃতির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।
হালাল বাণিজ্যে পারস্পরিক স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার
দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান হালাল পণ্যের বাজার ধরতে হালাল সনদ ও মানের পারস্পরিক স্বীকৃতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই খাতের বাণিজ্য সহজ করতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সরকার-টু-সরকার বা জিটুজি সহযোগিতার কাঠামোগত সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়েছে। উভয় পক্ষই বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি বাড়িয়ে সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিস্টিওয়াতিসহ উভয় দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পূর্বকোণ/ঐশী

















