২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৪ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এটি ছিল ৫.৮ শতাংশ। বিনিয়োগ কমে যাওয়া এর প্রধান কারণ। বেসরকারি বিনিয়োগ কমেছে ০.৫ শতাংশ, সরকারি বিনিয়োগ কমেছে ০.৭ শতাংশ, আর রফতানি কমেছে ৪.৮ শতাংশ।
গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে অনেক কারখানা পুরো ক্ষমতায় চলতে পারেনি। কোনো কোনো কারখানা কাজের সময় কমিয়েছে, উৎপাদন বন্ধ রেখেছে বা কর্মী ছাঁটাই করেছে। ২০১৭ সাল পর্যন্ত দেশ গ্যাসে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। এখন চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমদানি করতে হয়।
অক্টোবর ২০২৬-এর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে দেশের অর্থনীতির এমন চিত্র উঠে এসেছে। ‘মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।
কাজ, দাম ও দারিদ্র্য
কাজ হারানো অনেক নারী শ্রমবাজার ছেড়ে চলে গেছেন। নারীদের কাজে অংশগ্রহণ ২০২২ সালের ৪২.৮ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে ৩৮.৪ শতাংশে নেমেছে।
গড় মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ থেকে কমে ৮.৭ শতাংশ হয়েছে, কিন্তু দাম এখনো বেশি। কম আয়ের শ্রমিকদের মজুরি দামের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না।
দৈনিক ৩ ডলারের দারিদ্র্যসীমায় দারিদ্র্যের হার বেড়ে ১০.১ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ২২.৫ শতাংশ হয়েছে।
ব্যাংক খাত
ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি দেখছে বিশ্বব্যাংক
খেলাপি ঋণ, ২০.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৩.২ শতাংশ হয়েছে।
ইসলামি ব্যাংক, খেলাপি ঋণ ৫৮.৯ শতাংশ, আর সরকারি ব্যাংকে ৪৩.২ শতাংশ।
ব্যাংক মূলধন, ঋণাত্মক ২.৬ শতাংশ, অথচ ন্যূনতম থাকার কথা ১০ শতাংশ।
দুর্বল ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক ৭৬ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে।
বেসরকারি ঋণ, প্রবৃদ্ধি ৪.৫ শতাংশে নেমেছে, যা ৩৩ বছরে সবচেয়ে কম।
সরকারের আয়-ব্যয়
বাজেট ঘাটতি বেড়ে জিডিপির ৩.৯ শতাংশ হয়েছে। সরকারের মোট অর্থের ৮১.৫ শতাংশ এসেছে ব্যাংক থেকে, ফলে বেসরকারি খাত ঋণ কম পাচ্ছে। কর আদায় লক্ষ্যমাত্রার ৮২.৬ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে চলতি ব্যয় বেড়েছে, আর উন্নয়ন ব্যয় কমেছে।
প্রবাসী আয় ১৭.৩ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৩৫.৬ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগ ১৫ শতাংশ কমেছে।
ভবিষ্যতের পূর্বাভাস
২০২৬-২৭ অর্থবছর, প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৩.৯ শতাংশ হতে পারে।
জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২২.৮ শতাংশে উঠতে পারে।
মূল্যস্ফীতি, ৮.৬ ও ৭.১ শতাংশ থাকতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ
১. ব্যাংকগুলোর প্রকৃত অবস্থা দ্রুত যাচাই করে কোনটি টিকবে তা ঠিক করা।
২. দেশীয় গ্যাস উৎপাদন, এলএনজি অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়ানো।
৩. কর ফাঁকি ধরা ও অপ্রয়োজনীয় করছাড় ধাপে ধাপে কমিয়ে রাজস্ব বাড়ানো।
৪. সাধারণ ভর্তুকি কমিয়ে দরিদ্রদের জন্য নির্দিষ্ট সহায়তা বাড়ানো।
পূর্বকোণ/আদর/পারভেজ


















