চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার চট্টগ্রাম বোর্ডে

১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার চট্টগ্রাম বোর্ডে

ইমরান বিন ছবুর

১১ আগস্ট, ২০২৬ | ১:২৫ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় বিগত ১৯ বছরের মধ্যে এবার পাসের হার সর্বনিম্ন । ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এবছর ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মোট অকৃতকার্য হয়েছে ৫২ হাজার ৭৫৬ জন শিক্ষার্থী। এর চেয়ে কম শিক্ষার্থী পাস করেছিল সবশেষ ২০০৭ সালে।

 

ওইবছর পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। গতবছর (২০২৫ সালে) চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। সে হিসেবে এক বছরে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। দেশের নয় শিক্ষাবোর্ডের মধ্যে পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর দিকে চট্টগ্রাম বোর্ড ছয় নম্বরে রয়েছে। গতবছর চট্টগ্রাম বোর্ড পাসের হারে তিন নম্বরে ছিল।

 

অন্যদিকে, গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন শিক্ষার্থী। এবছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী। সে হিসেবে গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ কমেছে ২ হাজার ৪৪৫টি। গতকাল সোমবার সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করতে গিয়ে এসব তথ্য জানান।

 

এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২১৮টি কেন্দ্রের ১ হাজার ২১৮টি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। তবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন শিক্ষার্থী। এসএসসির পাসের হারের দিক দিয়ে নয়টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের মধ্যে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড ছয় নম্বরে রয়েছে।

 

বিষয় ভিত্তিক পাসের হার: চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এ বছর সবচেয়ে কম পাস করেছে ইংরেজি বিষয়ে। সব বিভাগের শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক এ বিষয়টিতে পাসের হার ৭২ দশমিক ২৮ শতাংশ। যেখানে ফেল করেছে ৩৫ হাজার ৮৬৬ জন শিক্ষার্থী। এরপর সাধারণ গণিত বিষয়ে পাসের হার হচ্ছে ৮০ দশমিক ০৬ শতাংশ। গণিতে ফেল করেছে ২৫ হাজার ৭৭৩ জন শিক্ষার্থী।

 

অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে বাংলায় ফেল করেছে ৪ হাজার ৫৭ জন, সাধারণ বিজ্ঞানে ৬ হাজার ৯৬১ জন, ভূগোল ও পরিবেশে ৩ হাজার ৩৭৩ জন, পদার্থ বিদ্যায় ২,৭১৭ জন। পাসের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, মাত্র তো ফল প্রকাশিত হয়েছে। পাসের হার কমে যাওয়া নিয়ে আমাদের কোন স্টাডি নেই। আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে যদি অন্তত ৫০০ স্কুলের মধ্যে একটি সার্ভে করতে পারি তাহলে হয়তো অনেক কিছু জানা যাবে। আমরা যদি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাই, তাহলে এই সার্ভে করবো।

 

পাসের হার ও জিপিএ-৫ এগিয়ে ছাত্রী: গত বছরের মত পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। এবছর ছাত্রীর পাসের হচ্ছে ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং ছাত্রের পাসের হার হচ্ছে ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ হাজার ২৭৫ জন ছাত্রী এবং ৪ হাজার ১২৩ জন ছাত্র। ছাত্রদের তুলনায় ১ হাজার ১৫২ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে।

 

বরাবরের মত এগিয়ে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা: তিন বিভাগের মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার হচ্ছে ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষায় পাসের হার ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ। পাসের হার এ পিছিয়ে রয়েছে মানবিকের শিক্ষার্থীরা। মানবিক বিভাগে এবার পাসের হার হচ্ছে মাত্র ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

 

তিন পার্বত্য জেলায় পাসের হারে ধস: মহানগরী ও জেলার তুলনায় পাসের হারে পিছিয়ে গেছে তিন পার্বত্য জেলা। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে রাঙামাটিতে এবার পাসের হার ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ। যেখানে গতবছর পাসের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ। খাগড়াছড়ি জেলায় পাসের হার ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ। যেখানে গতবছর পাসের হার ছিল ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বান্দরবান জেলায় পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। সেখানে গতবছর পাসের হার ছিল ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ।

 

তিন পার্বত্য জেলার মত পাসের হার কমেছে চট্টগ্রাম জেলা ও কক্সবাজার জেলায়। গতবছরের তুলনায় মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলার পাসের হার কমেছে ১৪ দশমিক ১৬ শতাংশ। এবছর চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার হচ্ছে ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। যেখানে গত বছর পাসের হার ছিল ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ। কক্সবাজার জেলায় এবছর পাসের হার হচ্ছে ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। গতবছর যেখানে পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এছাড়া, শুধুমাত্র নগরীতে পাসের হার হচ্ছে ৭৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। যেখানে গতবছর পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ।

পূর্বকোণ/নুসরাত

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট