চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

একাদশে কোথায় ভর্তি হবো?

মো. সেলিমুজ্জমান মজুমদার

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২:১৫ অপরাহ্ণ

কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভর্তি-ইচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এখন একটাই প্রশ্ন কোন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবো?’ একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। কারণ, মাধ্যমিকের পর শিক্ষাজীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দু’টি বছর শিক্ষার্থীরা কলেজেই অতিবাহিত করে। সঠিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন যেমন তাদের মেধা ও সম্ভাবনার বিকাশ ঘটাতে পারে, তেমনি ভুল সিদ্ধান্ত শিক্ষা জীবনে হতাশা, সময়ের অপচয় এবং ফলাফলে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই শুধু নাম, বাহ্যিক চাকচিক্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচারণায় প্রভাবিত না হয়ে ভর্তি-ইচ্ছু শিক্ষার্থীদের উচিত বড় ভাই-বোন, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া এবং সম্ভব হলে প্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে গিয়ে শিক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করা। কেমন প্রতিষ্ঠান বেছে নেবেন? একটি ভালো কলেজ, মাদ্রাসা বা কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু ভালো ফলের জন্য নয়; বরং শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিশেষভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

যোগ্য ও শিক্ষাবান্ধব নেতৃত্ব : প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং প্রশাসনিক ও একাডেমিক নেতৃত্ব কতটা যোগ্য, অভিজ্ঞ, শিক্ষাবান্ধব ও সুনামধারী,তা গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাম্পাস পরিদর্শন করলেই অনেকটা বোঝা যায় প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিবেশ কেমন।

দক্ষ ও আন্তরিক শিক্ষক : বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতা, পাঠদানের দক্ষতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের আন্তরিকতা সম্পর্কে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানা যেতে পারে।

সুন্দর ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ : পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, মনোরম নিরাপদ পরিবেশ , পরিচ্ছন্ন দুর্গন্ধ মুক্ত টয়লেট, বিশুদ্ধ পানি, সুশৃঙ্খল ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস থাকা জরুরি।

নিয়মিত পাঠদান ও মূল্যায়ন : নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট ও যথাযথ মূল্যায়নের ব্যবস্থা রয়েছে কি না? তা খোঁজ নেওয়া উচিত।

গ্রন্থাগার ও ল্যাবরেটরি : সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, বিজ্ঞান ও কম্পিউটার ল্যাবসহ ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ শিক্ষার্থীর জ্ঞানকে বাস্তবমুখী করে।

শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসন : শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের সঙ্গে সুসম্পর্ক, কার্যকর যোগাযোগ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন থাকা দরকার।

সহশিক্ষা কার্যক্রম : বিতর্ক, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ম্যাগাজিন প্রকার, দেয়ালিকা প্রকাশ, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, তায়কোন্দ, প্রশস্ত খেলাধুলামাঠ, ইবাদত খানা, প্যান্টির সুবিধা, আবাসিক সুবিধা, বিজ্ঞানচর্চা ও সামাজিক কর্মকান্ড সুযোগ শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণ বিকশিত করে।

নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ : শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, সৎ, মানবিক, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার মানসিকতা থাকতে হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও সুশাসন : আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, স্বচ্ছতা, নিয়মনীতি ও কার্যকর কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের মানের গুরুত্বপূর্ণ সূচক ।

যাতায়াত সুবিধা : সময়ের স্বল্পতা, ঘর-বাসা-বাড়ি থেকে প্রতিষ্ঠানের নৈকট্যতা এবং আর্থিক সামর্থ্য অবশ্যই বিবেচনা রাখা উচিত।

একটি ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু পরীক্ষার ভালোফল, জিপিএ কিংবা ভর্তি-সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত সাফল্য হলো, সেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কতটা জ্ঞানী, দক্ষ, সৃজনশীল, সৎ, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠছে। তাই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আগে তাড়াহুড়ো নয়; বিবেক দিয়ে তথ্য যাচাই করুন, ক্যাম্পাস দেখুন, বড় ভাই-বোন ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলুন। মনে রাখতে হবে, ভালো প্রতিষ্ঠান নির্বাচনই হতে পারে আপনার সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

লেখক : উপাধ্যক্ষ, সরকারি আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ, বায়েজিদ, চট্টগ্রাম।

পূর্বকোণ/মিফতা

শেয়ার করুন