অবশেষে শতভাগ অনলাইন কার্যক্রমের আওতায় এসেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ উইং উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র। এর ফলে আমদানি রপ্তানিতে প্রত্যাশিত গতি আসবে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি অনলাইন কার্যক্রম চালুর পর থেকে গত প্রায় সাড়ে তিন মাসে নতুন প্রবর্তিত (ডিজিটাল) কার্যক্রমের আওতায় উদ্ভিদ স্বাস্থ্যসনদ ইস্যু হয়েছে ১ হাজার ২৯৫টি, ছাড়পত্র ৪ হাজার ৪৩৯টি এবং আমদানি অনুমতি ইস্যু হয়েছে ১ হাজার ৭৬টি।
দেশের উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্য আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে সংস্থাটি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সনদ বা ফাইটোসেনেটারি সার্টিফিকেট (পিসি) ইস্যু করা, ছাড়পত্র বা রিলিজ অর্ডার (আরও) ইস্যু করা এবং আমদানি অনুমতি বা ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) ইস্যু করা। এসব নথিপত্রের কাজ এতোদিন কাগজে কলমে চললেও এখন শতভাগ অনলাইনে করা হচ্ছে।
দেশে উদ্ভিদজাত পণ্য যেমন চাল, গম, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ছোলা, খেজুর, সবজি এ জাতীয় পণ্য আমদানি বা রপ্তানি করতে হলে উল্লেখিত সনদ, অনুমতিপত্র ও ছাড়পত্র নিতে হয়। আমদানিকারক বা রপ্তানিকারকদের তাদের পণ্য উদ্ভিদ সংগনিরোধ বিভাগ থেকে ল্যাব টেস্ট করে সার্টিফিকেট বা ছাড়পত্র নিয়ে আমদানি-রপ্তানি করতে হয়। এছাড়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ‘স্যানিটারি এন্ড ফাইটোস্যানিটারি ম্যাজারস’ চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে টিকে থাকতে উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে উদ্ভিদ সংগনিরোধ থেকে সনদ নেয়া বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশের কৃষিকে রক্ষার জন্য উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রে আমদানিকৃত উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্য, উপকারী জীবাণু এবং প্যাকিং ম্যাটেরিয়ালের সাথে মিশে বিদেশি পোকামাকড় ও রোগবালাই যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিত করা হয়। উদ্ভিদ সংগনিরোধ আইন-২০১১ এর মধ্যমে দেশে উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে আসছে।
বর্তমানে অনলাইনে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের চলমান কাজ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন পূর্বকোণকে বলেন, দেশের উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্য আমদানি-রপ্তানিকারকদের নথিপত্রের কাজ এখন আর অফিসে এসে করতে হয় না। ঘরে বসে অনলাইনেই আবেদন, ছাড়পত্র ও সনদ নেওয়ার কাজ করতে পারেন। অনলাইন ভিত্তিক হওয়ায় দিনের ২৪ ঘণ্টার যে কোন সময় এসব কাজ করতে পারবেন। এতে সময় বাঁচবে, হয়রানিও কমবে।
তিনি আরো বলেন, শুরুর দিকে আমদনি-রপ্তানিকারকেরা নিরুৎসাহী হলেও তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ায় পর এখন অনলাইন ভিত্তিক কাজকে অধিক সহজ মনে করছেন। আর অনলাইন কার্মক্রমের মাধ্যমে নথিপত্র না ঘেঁটেই দেশে উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত কোন পণ্য কতটুকু আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে তা জানা যাবে। এই অনলাইন কার্যক্রম আমাদের আগে পরে করতেই হতো। কারণ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে উদ্ভিদ সংগনিরোধের কাজ অটোমেশনে নিয়ে যেতে হবে।
এ প্রসঙ্গে খাতুনগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বাশার চৌধুরী পূর্বকোণকে বলেন, উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের অনলাইন কার্যক্রম আমদানি-রপ্তানি কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছে। এখন আর অফিসে গিয়ে হাতে লিখে ফর্ম পূরণ করে আবেদন করতে হয় না। অফিসে বসে বা বাসা থেকেই সব কাজ করা যায়।
তিনি আরো বলেন, অনলাইনে সব কাজ হলেও আরো কিছু সুবিধা যুক্ত করা প্রয়োজন। কারণ আবেদনের সময় কোন পথে পণ্য আসবে বা যাবে তা উল্লেখ করতে হয়। কিন্তু কোন কারণে পথ পরিবর্তন করা হলে সেটি অনলাইলে সংশোধন করার ব্যবস্থাটি যুক্ত করলে আমাদের ব্যবসায়ীদের কাজ আরো সহজ হবে।
অনলাইনের ফলে যেসব সুবিধা :
আমদানি-রপ্তানির ফাইটোসেনেটারি সার্টিফিকেট (পিসি), ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) ও রিলিজ অর্ডার (আরও) এর আবেদন অনলাইনে করা যায়। সকল সনদ অনলাইনে পাওয়া যায় বলে অফিসে যেতে হয় না। তাৎক্ষণিক সারা দেশে কি পরিমাণ পণ্য কতটুকু আমদানি হচ্ছে জানা যায়। কোন তথ্য বা নথি প্রয়োজন হলে সেটিও অলাইনে সাবমিট করা যায়।
অনলাইনে যেভাবে আবেদন করতে হয় :
উদ্ভিদ সংগনিরোধ বিভাগের ওয়েব সাইট যঃঃঢ়://ঢ়য়.িফধব.মড়া.নফ/ প্রবেশ করে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। ফ্রিতে এই রেজিস্ট্রেশন করার পর ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে পরবর্তিতে লগইন করে যে কোন আবেদন করতে পারবে ও ইস্যু হওয়া সনদের প্রিন্ট নিতে পারবে। এর আগে কোন জাতীয় পণ্য, কি পরিমাণ পণ্য আমদানি বা রপ্তানি হবে তার নির্ধারিত ফি ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
এছাড়া সকল ধরনের আবেদনের নিয়মাবলী অফিসিয়াল সাইটে প্রদত্ত ভিডিও টিউটোরিয়াল থেকে জানা যাবে।
পূর্বকোণ/এএ


















