
চট্টগ্রামের সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সিআরবি রক্ষা পরিষদ।
আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) সিআরবি সাত রাস্তার মোড়ে পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট নাগরিক,বিভিন্ন পেশাজীবি-সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-শ্রমিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করেন।
সিআরবি রক্ষা মঞ্চের সমন্বয়ক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, এরকম একটি জাতীয় ঐতিহ্যমণ্ডিত ও ঐতিহাসিক স্থান এবং শতবছরে গড়ে উঠা প্রাকৃতিক পরিবেশে বাণিজ্যিক স্বার্থে নানা স্থাপনা নির্মাণের সিদ্ধান্ত একটি জনস্বার্থবিরোধী মুনাফালোভী মাফিয়া সিন্ডিকেটের গভীর চক্রান্ত। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ ধারাবাহিক আন্দোলন করে এ চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। তখন আমরা স্পষ্ট তথ্য প্রমাণ দিয়ে দেখিয়েছিলাম, ইউনাইটেড গ্রুপের সাথে রেলের সম্পাদিত পিপিপি চুক্তি সম্পূর্ণ অবৈধ, বেআইনি, সংবিধানবিরোধী ও রেলের জমি লুটপাটের লক্ষ্যে প্রণীত।
ডা. মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, সিআরবি ধ্বংস করে রেলের জমি লুটপাটের এ চুক্তিতে বিরাট দুর্নীতি হয়েছে, যার সাথে ইউনাইটেড, রেলের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও তৎকালীন আওয়ামী সরকারের মন্ত্রী-আমলা, ব্যবসায়ীক গোষ্ঠীসহ বড় একটি সিন্ডিকেট যুক্ত ছিল। তখন আমরা সিআরবি রক্ষা মঞ্চ রেলের সাথে ইউনাইটেড কোম্পানির লিজ চুক্তি ও রেলের প্রকল্পটি বাতিলের দাবি করেছিলাম। কিন্তু তখন বাতিল না করায় এখন নতুন সিন্ডিকেট প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই, আপনার সরকারের দুই মাস যেতে না যেতেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চট্টগ্রামবাসীর বিপক্ষে অবস্থান নেবেন না।।অতীতের লুটপাটের ধারাবাহিকতা আপনারা কেন বহন করবেন? অবিলম্বে সিআরবিতে প্রাইভেট হাসপাতাল নির্মাণের প্রকল্পটি বাতিল করুন।
ডাঃ মাহফুজুর রহমান আরো বলেন, সিআরবিতে প্রাইভেট হাসপাতালসহ কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবেনা। আজ রেলমন্ত্রী চট্টগ্রামে আসার দিন এ সিআরবি থেকে আবারও আমরা মাফিয়াদের কবল থেকে সিআরবি রক্ষার জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করলাম। সিআরবিতে প্রাইভেট হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিল না করা পর্যন্ত আমাদের এ ধারাবাহিক আন্দোলন চলবে। চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ, রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনকে সিআরবি রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানাই।
সিআরবি রক্ষা মঞ্চের সদস্য গণঅধিকার চর্চা কেন্দ্রের সেক্রেটারি মশিউর রহমান খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি জেরিনা হোসেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. ইমরান বিন ইউনুস, গণমুক্তি ইউনিয়নের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজা মিঞা, সিআরবি রক্ষা মঞ্চের যুগ্ম সমন্বয়ক রিজওয়ানুর রহমান খান, অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, রেল শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এড এম আর মঞ্জু, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক অধ্যক্ষ ডা. রতন নাথ, সাবেক কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেদৌস পপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান মাকসুদ, বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা সমন্বয়ক এডভোকেট শফি উদ্দিন কবির আবিদ, নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি আসমা আক্তার, গণসংহতি আন্দোলন নগর সমন্বয়ক চিরন্তন চিরু, জাহেদুল আলম, এনসিপি নগর আহবায়ক আরিফ মাইনুদ্দিন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল নেতা সাইফুর রুদ্র, বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার সিঞ্চন ভৌমিক, লেখক নেছার আহম্মদ, সংস্কৃতিকর্মী দিলরুবা খানম, শ্রমিকনেতা এম নুরুল হুদা, জিয়াউল হক, শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন সেক্রেটারি জাহেদুন্নবী কনক, খেলাঘরের মোরশেদ আলম, ন্যাপের মিথুন দাশগুপ্ত, ব্রাইট বাংলাদেশের সোহাইল উদ দৌজা, জাহাজ শ্রমিক নেতা সাজ্জাদ হোসেন, বেলার সংগঠক মুনিরা চৌধুরী, ইপসার সানজিদা আক্তার, ক্যাব নেতা জানে আলম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নেতা দীপা মজুমদার, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল নেতা মো. আকিব, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নেতা শওকত ওসমান, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর শফিক ইসলাম, বে অফ বেঙ্গল পিপলসের আবরার রাজিন, ইয়ুথ পিপলের সিজরাতুল মুনতাহার প্রমুখ।
পূর্বকোণ/পিআর