তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য—”রাস্তায় চাঁদাবাজির ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলে সাইবার ক্রাইম আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে”—আমাদের হতবাক এবং শঙ্কিত করেছে। এই ঘোষণা কি অপরাধ দমনের বার্তা, নাকি অপরাধীদের রক্ষাকবচ?
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও তোলাবাজরা রাষ্ট্রের শত্রু। ভুক্তভোগী যখন তার ওপর হওয়া জুলুমের চিত্র ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানান, তখন তিনি কোনো অপরাধ করেন না, বরং নাগরিক দায়িত্ব পালন করেন। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে, যখন চোখের সামনে অন্যায় ঘটতে দেখেও প্রশাসন অনেক সময় নিষ্ক্রিয় থাকে, তখন সাধারণ মানুষের একমাত্র হাতিয়ার হয়ে ওঠে ক্যামেরা।
কেন এই আইন ভুক্তভোগী বিরোধী?
১. সাক্ষী ও প্রমাণ নষ্ট: চাঁদাবাজির ভিডিও ধারণ না করলে বা তা প্রকাশ না করলে অনেক ক্ষেত্রেই চাঁদাবাজরা পার পেয়ে যায়। ভিডিওটিই বিচারের মূল প্রমাণ।
২. হয়রানির শিকার: ভুক্তভোগীই এখন পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হবেন? অপরাধীর চেয়ে অপরাধের চিত্র ধারণকারী বেশি অপরাধী? এটি ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
৩. ভীতির পরিবেশ: এই নির্দেশনার ফলে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি দেখেও ভয়ে মুখ খুলবে না বা ভিডিও করবে না, যা চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য আরও বাড়িয়ে দেবে।
আমাদের দাবি—
অবিলম্বে এই বিতর্কিত অবস্থানের পরিবর্তন করতে হবে।
চাঁদাবাজির ভিডিও যারা ধারণ করেছেন, তাদের হয়রানি না করে, ভিডিওর ভিত্তিতে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।
সাইবার আইন যেন ভুক্তভোগীদের কণ্ঠরোধের হাতিয়ার না হয়।
রাস্তায় চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হলে চাঁদাবাজদের ধরতে হবে, ভুক্তভোগীদের নয়।
— একজন সচেতন নাগরিক।
উজ্জ্বল আহমেদ





















