চট্টগ্রাম রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

বিশ্বকাপে তৃতীয় ইংল্যান্ড

গোলবন্যা, হ্যাটট্রিক আর রেকর্ডে রুদ্ধশ্বাস জয়

পূর্বকোণ ডেস্ক

১৯ জুলাই, ২০২৬ | ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেকেই ‘সান্ত্বনা’র লড়াই বলে থাকেন। তবে শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির মাঠে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে। ১০ গোলের রোমাঞ্চ, বুকায়ো সাকার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক, কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোল ও একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ডের সাক্ষী হয়ে শেষ পর্যন্ত ৬-৪ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।

প্রথমার্ধেই ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ফ্রান্স, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর হার এড়াতে পারেনি ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিই ইংল্যান্ডের সেরা সাফল্য।

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই মাঝমাঠে মাইকেল ওলিসের ভুল পাস থেকে বল কাড়েন ডেক্লান রাইস। কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন তিনি।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। ১৮ মিনিটে রাইসের কর্নার থেকে লাফিয়ে উঠে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরি কোনসা। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম সময়ে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার তিক্ত রেকর্ড গড়ে ফ্রান্স। এর আগে ২০২২ সালের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩৬ মিনিটে তারা দুই গোলে পিছিয়েছিল।

৩৮ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের পাস থেকে সহজ ফিনিশে গোল করেন বুকায়ো সাকা। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ইংল্যান্ডকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে রেখে বিরতিতে পাঠান আর্সেনাল তারকা। ১৯৫৮ সালের সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে পাঁচ গোল হজমের পর বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে চার গোল হজম করল ফ্রান্স।

বিরতির পর চারটি পরিবর্তন এনে আক্রমণের ধার বাড়ান ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম। তার ফলও আসে দ্রুত। ৪৮ মিনিটে ওলিসের ক্রস থেকে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। ছয় মিনিট পর এমবাপের অ্যাসিস্টে ব্যবধান ৪-২ করেন ব্রাডলি বারকোলা। মাত্র নয় মিনিটে দুই গোল করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় ফ্রান্স।

৬৭ মিনিটে আবারও গোল করেন এমবাপে। ওলিসের ফ্লিক থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে ব্যবধান কমিয়ে আনেন ৪-৩-এ। এই গোলের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন ফরাসি অধিনায়ক।

এবারের আসরে এমবাপের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১০-এ। ১৯৭০ সালে গার্ড মুলারের পর এক বিশ্বকাপে ১০ গোল করা প্রথম ফুটবলার তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে মোট ২২ গোল করে লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ড ভেঙে আসরের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন এমবাপে। অন্যদিকে এই আসরে ওলিসের অ্যাসিস্ট দাঁড়ায় ৭-এ, যা ১৯৭০ সালের পর এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ।

ফ্রান্স যখন সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া, ঠিক তখনই ইংল্যান্ড পায় পেনাল্টি। স্পট কিক থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা এবং ইংল্যান্ডকে ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ১৯৬৬ সালের ফাইনালে জিওফ হার্স্টের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে হ্যাটট্রিক করা দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হলেন সাকা।

যোগ করা সময়ে ম্যাচে আরও দুটি গোল হয়। প্রথমে উসমান দেম্বেলে ফ্রান্সের হয়ে ব্যবধান কমিয়ে ৫-৪ করেন। তবে তার দুই মিনিট পর জুড বেলিংহামের গোল ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করে ৬-৪ ব্যবধানে।

ম্যাচে সাকার হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি ডেক্লান রাইস, এজরি কোনসা ও জুড বেলিংহাম একটি করে গোল করেন। ফ্রান্সের হয়ে জোড়া গোল করেন এমবাপে, আর একটি করে গোল আসে বারকোলা ও দেম্বেলের পা থেকে।

শেষ মুহূর্তে বেলিংহামের গোলটি ছিল ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এই বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৭-এ, যা তাকে আর্লিং হলান্ডের সমান তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার কাতারে তুলেছে। অন্যদিকে দেম্বেলের গোলসংখ্যা হয় ৬, যা হ্যারি কেইনের সমান।

অসাধারণ আক্রমণাত্মক ফুটবল, গোলের বন্যা এবং একাধিক রেকর্ডের জন্ম দেওয়া এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড। তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসেও স্মরণীয় এক ম্যাচ উপহার দিল দুই দল।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট