ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে একসঙ্গে আঘাত হেনেছে দাবানল, দাবানলের ধোঁয়া এবং আকস্মিক বন্যা। দেশের পূর্বাঞ্চলে দাবানলের ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের টেক্সাসে তৃতীয় দিনের মতো ভয়াবহ বন্যা চলছে এবং পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে একের পর এক দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে।
দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে লাখো মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ বাতাসের মান মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে এবং অনেক এলাকায় পরিস্থিতি স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টারের (এনআইএফসি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৫টি অঙ্গরাজ্যে ৬৮টি বড় দাবানল জ্বলছে। শুধু প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেই বজ্রপাতের পর নতুন করে ১৭টি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে ১৭ হাজার ৪০০-এর বেশি দমকলকর্মী, ১৪০টি হেলিকপ্টার এবং চারটি সামরিক সি-১৩০ অগ্নিনির্বাপণ বিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বছর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩৭ লাখ ২০ হাজার একর জমি দাবানলে পুড়ে গেছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ লাখ একরেরও বেশি।
এদিকে, টেক্সাসের হিল কান্ট্রি এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টিতে তৃতীয় দিনের মতো বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। অনেক এলাকায় পানি বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট লেকস অঞ্চল থেকে ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বহু এলাকায় বাতাসের মান বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই সময়ে দাবানল, ধোঁয়া ও বন্যার মতো একাধিক দুর্যোগ একসঙ্গে ঘটলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়ে যায় এবং মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
জলবায়ুবিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। উষ্ণ আবহাওয়া একদিকে মাটি ও বনভূমিকে আরও শুষ্ক করে দাবানলের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলে বেশি জলীয়বাষ্প জমে স্বল্প সময়ে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণ হচ্ছে।
তাদের সতর্কবার্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ত্রিমুখী আবহাওয়া বিপর্যয় আরও ঘন ঘন এবং আরও ভয়াবহ হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
পূর্বকোণ/আদর/পারভেজ















