১৬ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১২৯ রান। ২০০ রানের স্বপ্ন তখন অনেকটাই ফিকে।
কিন্তু শেষ ওভারে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মুহূর্তেই বদলে যায় চিত্র। শেষ ওভারে ব্র্যাড ইভান্সকে টানা চারটি ছক্কা মেরে বাংলাদেশকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন এই অলরাউন্ডার।
তার ঝড়ো ইনিংসেই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৬ রান তুলেছে বাংলাদেশ। বুলাওয়েতে সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ।
উদ্বোধনী জুটিতে দারুণ শুরু এনে দেন সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। যদিও শুরু থেকেই ভাগ্য ছিল সাইফের পক্ষে। ৮, ১৭, ১৯, ৩৭ ও ৪৬ রানে মোট পাঁচবার জীবন পান তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৪৫ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৮টি চার ও একটি ছক্কা। অন্য প্রান্তে আরও সাবলীল ছিলেন তানজিদ। বাঁহাতি এই ওপেনার ৪৪ বলে ৫৮ রান করেন, মারেন ৬টি চার ও ২টি ছক্কা। দুজন মিলে ৮৮ বলে ১২০ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি করেন।
তবে ১৫তম ওভারের পর ম্যাচে ফেরে জিম্বাবুয়ে। সিকান্দার রাজা ভাঙেন উদ্বোধনী জুটি। এরপর রিচার্ড এনগারাভা একই ওভারে ফিরিয়ে দেন তানজিদ ও তাওহীদ হৃদয়কে। ব্র্যাড ইভান্সের জোড়া আঘাতে দ্রুত সাজঘরে ফেরেন পারভেজ হোসেন ইমন ও নুরুল হাসান সোহানও। ফলে ১৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৪২।
সেখান থেকেই শুরু হয় সাইফউদ্দিনের ঝড়। ইয়াসির আলিকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তিনি। শেষ ওভারে ব্র্যাড ইভান্সের প্রথম চার বলই গ্যালারিতে পাঠান সাইফউদ্দিন। টানা চার ছক্কায় এক ওভার থেকেই আসে ২৮ রান। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের এক ওভারে টানা চার ছক্কার এটিই প্রথম ঘটনা।
শেষ পর্যন্ত মাত্র ১০ বলে ৪টি ছক্কায় অপরাজিত ৩১ রান করেন সাইফউদ্দিন। ইয়াসির আলি ১২ বলে ২২ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। শেষ পাঁচ ওভারেই বাংলাদেশ তোলে ৬৫ রান, যা দলকে ১৮৬ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ এনে দেয়।
জিম্বাবুয়ের হয়ে এনগারাভা দুটি এবং ব্র্যাড ইভান্স দুটি উইকেট নেন। তবে সবচেয়ে খরুচে ছিলেন ইভান্সই। ৪ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে ম্যাচের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বোলার হয়েছেন তিনি।
পূর্বকোণ/কায়ছার/পারভেজ















