ব্রাজিল হয়তো ফুটবলে ‘সাম্বা’ ছন্দ ফিরে পায়নি। তাই বলে, চলমান বিশ্বকাপে তারা ফেবারিট নয়-এটা নিন্দুকেরাও মানতে চাইবেন না। কারণ, হেক্সা মিশনে ২৩তম বিশ্বকাপে নাম লেখানো ‘ব্রাজিল’ নামটিই ফেবারিট হওয়ার জন্য যথেষ্ট। এর সাথে ২৫ জুন ভোরে (বাংলাদেশ সময় ২৪ জুন মধ্যরাতের পর ভোররাত ৪টা) স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে নেইমার যদি ব্রাজিল একাদশে থাকেন তাহলে লাল-সবুজের এই দেশেও আনন্দের হলুদ ঢেউ উঠবে।
অবশ্য নেইমার ফিরলেই যে সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে তাও কিন্তু নয়। কারণ, দীর্ঘসময় পর মাঠে নেমে ছন্দে ফিরতে যে কোন ফুটবলারেরই কিছুটা সময় লাগে। নেইমার হয়তো তার অভিজ্ঞতা দিয়ে ‘সাম্বা’ ফেরাতে সহায়তা করবেন।
প্রসঙ্গত. ২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে হাঁটুতে মারাত্মক চোট পাওয়ার পর প্রায় ৬৫০ দিনেরও বেশি সময় নেইমার জাতীয় দলের বাইরে আছেন। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামলে নেইমার চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলবেন।
গ্রুপ সি’তে প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে ছন্দহীন ব্রাজিল কোনমতে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে। এরপর হাইতিকে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকলেও ২৫ জুন ভোরে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মরক্কো-হাইতি ম্যাচের দিকেও নজর থাকবে বিশ্লেষকদের। সমীকরণে হয়তো অনেক কিছুই বলছে, তবে ভিনিসিয়স জুনিয়র-নেইমাররাদের পিঠ এখন দেয়াল থেকে অনেক দূরেই আছে।
নেইমারের ইনজুরির নিয়ে মজা করেছেন খোদ ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট। বলেছেন, বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া একমাত্র ‘হোম অফিস’ করা ফুটবলার। প্রেসিডেন্ট আবার তাঁর সার্ভিসও চাইছেন। দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন ব্রাজিল ফুটবলে অন্যতম তারকার। সেই নেইমার হাইতি ম্যাচের আগেই একক অনুশীলনে ফিরেন। দলের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন এবং ২২ জুন দলের মূল রণকৌশলগত বিশেষ অনুশীলনেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন নেইমার। ২৩ জুন তিনি প্রথমবারের মতো দলের পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে যোগ দেন।
এদিকে দলের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সেশন সম্পন্ন করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সেলেসাও স্ট্রাইকার। নেইমার লেখেন, ‘ধন্যবাদ, ঈশ্বর। আমি ভীষণ আনন্দিত!’ নেইমারের প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন সতীর্থ মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা। তিনি বলেন, নেইমারকে দলে ফিরে পেয়ে আমরা সবাই খুবই আনন্দিত। সে আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। জাতীয় দলের হয়ে তার দারুণ ইতিহাস রয়েছে এবং সে এখনও আমাদের অনেক সাহায্য করতে পারে। ব্রাজিলের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ১২৯ ম্যাচে ৭৯ গোল করেছেন নেইমার, যা তাকে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত করেছে।
পূর্বকোণ/কিরণ/পারভেজ















