আটলান্টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ২ গোলে এগিয়ে থেকেও আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে মিসর। শেষ ১২ মিনিট ও যোগ করা সময়ে তিন গোল করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রে শুধু এই ঘুরে দাঁড়ানো নয়, উঠেছে রেফারিং আর ভিএআরের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন।
মাঠের ঘটনা সংক্ষেপে:
১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের হেডে এগিয়ে যায় মিসর।
প্রথমার্ধে মেসির পেনাল্টি ঠেকান গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর।
দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তফা জিকোর একটি গোল ভিএআরে বাতিল হয় (আক্রমণের শুরুতে মারওয়ান আতিয়ার সামান্য ফাউলের কারণে)
জিকো ফের গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন।
৭৯ মিনিটে রোমেরো, ৮৩ মিনিটে মেসি সমতা ফেরান।
যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের হেডে জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।
মিসরের অভিযোগ কী?
কোচ হোসাম হাসান সরাসরি বলেছেন, তার দল অবিচারের শিকার হয়েছে, এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ও মেসিকে টুর্নামেন্টে রাখতে চাপ কাজ করেছে কি না।
তার মূল দুই অভিযোগ:
জিকোর গোল বাতিল হয়েছে সামান্য শারীরিক সংস্পর্শের জন্য।
আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে বক্সে সালাহকে ফাউল করা হলেও পেনাল্টি মেলেনি
যুক্তি কতটা টেকে:
ভিএআরের নিয়ম বলে, গোলের আগে আক্রমণকারী দলের ফাউল থাকলে তা পরীক্ষা করা যায়, নিয়মের দিক থেকে জিকোর গোল বাতিলের সুযোগ ছিল।
কিন্তু প্রশ্ন হলো ধারাবাহিকতা:
একই মাত্রার সংস্পর্শ যদি সারা ম্যাচে চলতে দেওয়া হয়, তাহলে ওই মুহূর্তেই কড়াকড়ি কেন?
অন্যদিকে পেনাল্টির সিদ্ধান্তে ভিএআর সাধারণত অনেক বেশি রক্ষণশীল থাকে , মাঠের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে হলে ভিডিওতে স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট ভুল দেখা দরকার। তাই সালাহর ঘটনায় হস্তক্ষেপ না হওয়াটা এককভাবে ষড়যন্ত্রের প্রমাণ নয়, বরং ভিএআরের সাধারণ কার্যপ্রণালীর সঙ্গেও মেলে।
তবে এই দুই সিদ্ধান্ত পাশাপাশি রাখলে একটা অসংগতি স্পষ্ট হয় , এক জায়গায় হালকা ছোঁয়ায় কঠোরতা, আরেক জায়গায় সম্ভাব্য ফাউলে নীরবতা। এটাই মিসরের অভিযোগের সবচেয়ে শক্ত অংশ।
তবে প্রমাণ কোথায়?
মেসি বা আর্জেন্টিনাকে পরিকল্পিতভাবে সুবিধা দেওয়া হয়েছে , এমন দাবি প্রমাণ করতে হলে দরকার রেফারিদের ব্যাখ্যা, ভিএআর অডিও রেকর্ডিং, বা ফিফার আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা। এখন পর্যন্ত এসবের কিছুই সামনে আসেনি। ফলে যা আছে তা হলো বিতর্কিত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত, ইচ্ছাকৃত পক্ষপাতের প্রমাণ নয়।
কোচ হাসান ম্যাচের সময় নিয়েও আপত্তি তুলেছেন,দুপুর ১২টায় নকআউট ম্যাচ আয়োজন খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও শারীরিক সক্ষমতার জন্য অনুকূল নয় বলে মনে করেন তিনি। এটি একটি পুরনো ও বহুল আলোচিত সমস্যা, বড় টুর্নামেন্টে সম্প্রচার-সময়সূচি প্রায়ই খেলোয়াড়দের স্বার্থের চেয়ে অগ্রাধিকার পায় বলে সমালোচনা আছে।
শেষ কথা:
মিসর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও হেরেছে, একটি গোল বাতিল হয়েছে, শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি দাবি নাকচ হয়েছে। এমন ম্যাচের পর ক্ষোভ স্বাভাবিক। কিন্তু ন্যায্য মূল্যায়ন হলো মিসর কিছু কঠিন ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ রেফারিং সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছে, তবে আর্জেন্টিনার জয়কে শুধু সেসব সিদ্ধান্ত দিয়ে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। শেষ ১২ মিনিটে মিসরের রক্ষণ ভেঙে পড়ে, আর আর্জেন্টিনা ঠিক সেই মুহূর্তেই বড় দলের মতো সুযোগ কাজে লাগায়।
এই ম্যাচ তাই দুই কারণে মনে থাকবে, একদিকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, অন্যদিকে ভিএআরের ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে ওঠা প্রশ্ন।
পূর্বকোণ/আদর/পারভেজ















