বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের জীবনের অন্যতম সেরা ম্যাচ খেলেছিলেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ঐতিহাসিক ড্র এনে দেন তিনি। ম্যাচ শেষে যখন সবাই তার বীরত্বগাথা নিয়ে কথা বলছিল, তখন সংবাদ সম্মেলনে এক ভিন্ন গল্প শোনান এই গোলরক্ষক। জানান বিশ্বকাপ খেললেও নিজের মাকে গ্যালারিতে বসিয়ে সেই মুহূর্ত দেখাতে পারেনি।
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত ভোজিনহা সাংবাদিকদের জানান, তার মা আনা ক্যান্ডিদা এভোরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে খেলা দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং ভ্রমণের খরচ জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। অর্থসংকটের কারণেই শেষ পর্যন্ত তাকে দেশে থেকেই ছেলের খেলা দেখতে হয়েছে।
কথাগুলো বলতে গিয়ে ভোজিনহা চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
তিনি জানান, বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ হলেও মায়ের অনুপস্থিতি তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে। তার ভাষায়, এই অর্জনের মুহূর্তটি তিনি সবচেয়ে বেশি ভাগাভাগি করতে চেয়েছিলেন মায়ের সঙ্গে।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া সেই আবেগঘন বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরা তার গল্পে মুগ্ধ হন। অনেকেই মন্তব্য করেন, বিশ্বকাপ শুধু গোল আর জয়-পরাজয়ের গল্প নয়; এটি মানুষের জীবনসংগ্রাম ও পারিবারিক সম্পর্কের গল্পও।
এই ঘটনার পর নতুন এক ইতিবাচক খবর সামনে এসেছে। রয়টার্স এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ ভোজিনহার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে এবং তার মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার বিষয়ে সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্স কে জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় ভিসা সহায়তা ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে যাতে তিনি বিশ্বকাপ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এখনও তার ভিসা অনুমোদিত হয়েছে বা তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করেছেন এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে বিষয়টি নিয়ে কার্যক্রম চলছে।
কেপ ভার্দের জন্য এটি এমনিতেই একটি স্মরণীয় বিশ্বকাপ। তার ওপর ভোজিনহার ব্যক্তিগত এই গল্প বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। এখন অনেক ফুটবলপ্রেমী অপেক্ষা করছেন আরেকটি দৃশ্য দেখার জন্য বিশ্বকাপের গ্যালারিতে বসে একজন মা তার ছেলের খেলা দেখছেন, আর মাঠে দাঁড়িয়ে সেই ছেলেটি জানছে, এবার তার সবচেয়ে বড় সমর্থকটি আর হাজার মাইল দূরে নেই।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে ইতোমধ্যে উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, কেপ ভার্দের পরবর্তী ম্যাচগুলোর কোনো একটিতে মা-ছেলের সেই বহুল প্রতীক্ষিত পুনর্মিলন ঘটে কি না।
পূর্বকোণ/এএইচ

















