চট্টগ্রাম বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

কেপ ভার্দের গোলরক্ষক কে এই ভোজিনহা

কেপ ভার্দের গোলরক্ষক কে এই ভোজিনহা

স্পোর্টস ডেস্ক

১৬ জুন, ২০২৬ | ১১:৫৭ অপরাহ্ণ

শেষ বাঁশি বাজতেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন তিনি। কিছুক্ষণ পর দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কান্না। চারপাশ থেকে ছুটে এলেন সতীর্থরা। কেউ তাকে জড়িয়ে ধরলেন, কেউ কাঁধে হাত রাখলেন। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা চোখের জল তখন শুধু স্রেফ তার আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং একটি দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্তের প্রতিচ্ছবি হয়ে রইলো।

 

বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে। আর এই অবিশ্বাস্য ফলের সবচেয়ে বড় নায়ক ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। ফেরান তোরেস, পেদ্রি ও আইমেরিক লাপোর্তের নিশ্চিত গোলের সুযোগ ফিরিয়ে দিয়ে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি। আসল নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস। তবে ফুটবল বিশ্ব তাকে চেনে ‘ভোজিনহা’ নামেই। পর্তুগিজ ভাষায় যার অর্থ ‘ছোট দাদি’। ছোটবেলায় বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীতে, আর মা কাজে ব্যস্ত থাকতেন। তাই শৈশবের বেশিরভাগটাই কেটেছে দাদা-দাদির কাছে। সেখান থেকেই তার ডাকনাম হয়ে যায় ‘ভোজিনহা’।

 

বর্তমানে পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের কাব শ্যাভেসের হয়ে খেলেন ভোজিনহা। কেপ ভার্দে, অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, সাইপ্রাস, স্লোভাকিয়া ও পর্তুগালের বিভিন্ন কাবে খেলেছেন তিনি। বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচেই আলো ছড়িয়ে ভোজিনহা বলেন, নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। আমি কেঁদেছি কারণ আমার দাদা-দাদি আজ বেঁচে নেই। তারা আমার জন্য অনেক কিছু করেছেন। মায়ের কথাও মনে পড়েছে তার। ভিসা জটিলতার কারণে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তিনি বলছিলেন, আমার মা এখানে থাকতে পারেননি। ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে সময়মতো সবকিছু করা সম্ভব হয়নি। ভোজিনহার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন ফুটবল তারকারাও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রশংসা করে পোস্ট দিয়েছেন ফরাসি মিডফিল্ডার পল পগবা। লিখেছেন, কেপ ভার্দের গোলরক্ষক সত্যিই অবিশ্বাস্য, ওয়াও!

 

পূর্বকোণ/কিরণ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট