অত্যন্ত উদ্দীপনা ও গুরুত্বের সাথে চট্টগ্রামে পালিত হয়েছে ‘জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬’। “শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশু অধিকার রক্ষা, পরিবার ও সমাজে বৈষম্য দূরীকরণ, সঠিক মূল্যবোধ চর্চা এবং কন্যাশিশুদের সুরক্ষায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমি’র ৫০ বছর পূর্তি (সুবর্ণ জয়ন্তী) শিশু অধিকার দিবস ও বিশ্ব শিশু সপ্তাহ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, চট্টগ্রাম-এর উদ্যোগে এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ইপসা-সহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও সামাজিক সংস্থার সহযোগিতায় সোমবার শিশু একাডেমি চট্টগ্রাম মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে কন্যাশিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা ও মনোরম সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জনাব পাঠান মো, সাইদুজ্জামান। তিনি বক্তব্যে পারিবারিক মূল্যবোধ ও শিশু লালন-পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের পূর্ণ আস্থা থাকা প্রয়োজন, কোনো অবস্থাতেই তাদের হতাশ বা ডিমোটিভেট করা যাবে না। কেবল প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা বা এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটির পেছনে না ছুটে শিশুদের বেসিক ম্যানার ও সামাজিক মূল্যবোধ শেখানো জরুরি, যা মূলত পরিবার থেকেই শুরু হয়। কন্যাশিশুরা যাতে কোনোভাবেই পিছিয়ে না পড়ে এবং নিজেদের অসীম সম্ভাবনাসমূহ ফুটিয়ে তুলতে পারে, সেজন্য পরিবারে সমতা ও ইতিবাচক চর্চা বাড়াতে হবে। নারীদের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমাদের সরকারি-বেসরকারি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপপরিচালক জনাব আতিয়া চৌধুরী বলেন, “বাল্যবিবাহ কেবল একটি একক সমস্যা নয়, বরং নিরাপত্তাহীনতা ও সহিংসতার সাথে এটি সম্পর্কিত। ছেলে ও মেয়ে সন্তানের মধ্যে বৈষম্যের যে মানসিকতা তা পরিবার থেকেই দূর করতে হবে। কোনো ভুলের জন্য যেন শিশুকে জীবন দিতে না হয়, অভিভাবক হিসেবে আমাদের প্রতিটি শিশুর পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়ানো উচিত। শিশুকাল থেকেই ইমোশন নিয়ন্ত্রণের বদলে শিশুদের ‘ইমোশন ম্যানেজমেন্ট’ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ‘না’ বলতে শেখাতে হবে। শিশু সুরক্ষায় রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, চট্টগ্রামের বাস্তবায়নে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ইপসা, কারিতাস, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, ব্র্যাক, টিআইবি, কোডেক, ঘাসফুল, মমতা, জনউন্নয়ন সংস্থা, প্রত্যাশী, বিটা, বনফুল, ইলমা, বিবিএফ, যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, সং সপ্তক, কিড্স কালচারাল ইনস্টিটিউট, অপরাজ্যে বাংলাদেশ, স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশন, এসওএস শিশুপল্লী, ভিডিআরসি, সিডিসিসহ নানা সামাজিক ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ অংশ নেন এবং শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
পূর্বকোণ/নুসরাত/পারভেজ


















