বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ক্যাডেট কলেজ ক্লাব চিটাগং লিমিটেড থেকে দাওয়াত পেয়েছেন শিক্ষক অখিল চন্দ্র কুন্ডু। সেই দাওয়াতে যোগ দিতে প্রায় সাড়ে তিনশ কিলোমিটার দূরের ফরিদপুর জেলা থেকে ছুটে এলেন চট্টগ্রামে। ভূগোলের এই শিক্ষক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আয়োজকদের প্রতি। তুলে ধরেন ক্যাডেট কলেজ জীবনের স্মৃতিমাখা সেই দিনগুলো। ৩৩ বছর শিক্ষকতা করে ২০১৯ সালে উপাধ্যক্ষ হিসেবে অবসরে যান তিনি।
অখিল চন্দ্র কুন্ডু ১৯৯৬ সালে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। এরপর শিক্ষকতা করেছেন রাজশাহী, বরিশাল ও পাবনা ক্যাডেট কলেজে।
গতকাল সোমবার নগরীর আগ্রাবাদস্থ ক্যাডেট কলেজ ক্লাব চিটাগং লিমিটেডের আয়োজনে যোগ দেন বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে। শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের সঙ্গে ক্যাডেটদের সম্পর্কটা খুবই সুমধুর। এর অন্যতম একট কারণ হচ্ছে, ক্যাডেটেরা যখন আসে তখন একদম অল্প বয়সে। তাই তাদের পিতা-মাতার মতো আদর-স্নেহ-মমতা দিয়ে গড়ে তুলতে হয়। পড়াশোনা শেষ করে পূর্ণ-যৌবনে বের হয়। ক্যাডেট হিসেবে বের হয়েও তারা শিক্ষকদের অগাধ শ্রদ্ধা-সম্মান করেন। তাদের এই ভালবাসা-সম্মান অন্য কোথাও দেখা যায় না।’
১৯৯৩ সালে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন নায়লা আক্তার। শিক্ষকতা জীবনে ময়মনসিংহ, ফেনী, মির্জাপুর এবং সিলেট ক্যাডেট কলেজে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন।
গতকাল শিক্ষক দিবসের সম্মাননা দিবসে তিনি বলেন, ক্যাডেট কলেজগুলোর আবাসিক পরিবেশের কারণে শিক্ষার্থীরা আমার কাছে নিছক সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ছিল না। সব সময় তাদের নিজের সন্তানের মতো করে মায়া-মমতা ও যত্ন করেছি। শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হলে ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মেডিকেলে দেখতে যেতাম।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা ফোন করে ক্যাডেটদের মধ্যে অনেকেই এখনো যোগাযোগ করেন। দীর্ঘ সময় পর আজ এখানে এসে ভালো লাগছে। আয়োজকদের ধন্যবাদ এখানে থাকতে পেরে। পুরানো শিক্ষার্থীদের আজকের এই সাক্ষাৎ জীবনের এক অনন্য প্রাপ্তি ও নস্টালজিক মুহূর্ত হিসেবে মনে হয়েছে আমার। নগরীর অন্যতম অভিজাত ক্লাব ক্যাডেট কলেজ ক্লাব চিটাগং লিমিটেডের উদ্যোগে গতকাল ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ পালিত হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্যাডেট কলেজের অবসরপ্রাপ্ত ও বর্তমান মোট ৫ জন শিক্ষককে সম্মাননা জানানো হয়।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় সংগীত, কোরআন তেলোয়াত ও শিক্ষকদের জন্য দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থপতি সোহাইল মোহাম্মদ শাকুর। এরপর ক্যাডেট কলেজের একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ক্যাডেট কলেজের নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে তাদের উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়। উপস্থিত শিক্ষকদের অনেকেই স্মৃতিচারণা করেন। স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অনেকেই আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন। নস্টালজিয়ায় ফিরে যান। কয়েকজন শিক্ষক স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে চোখের পানি সংরবণ করতে পারেননি। অনুষ্ঠানে আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে গান পরিবেশন করেন বিভিন্ন ক্যাডেট কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা।

















