চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

এভারকেয়ার হসপিটালের পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগের ১০ বছর পূর্তি

এভারকেয়ার হসপিটালের পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগের ১০ বছর পূর্তি

বিজ্ঞপ্তি

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২:৫৪ অপরাহ্ণ

এভারকেয়ার হসপিটালস বাংলাদেশের (ঢাকা ও চট্টগ্রাম) পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চট্টগ্রামে সামাজিক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশুদের হৃদরোগের লক্ষণ, রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
 
 
অনুষ্ঠানে শিশুদের হৃদরোগ ও হৃদ্‌যন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন এভারকেয়ার হসপিটালস বাংলাদেশের পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা, কো-অর্ডিনেটর ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. তাহেরা নাজরীন।
 
 
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে আট থেকে দশজন জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়। জন্মের পরপরই কিছু হৃদরোগের লক্ষণ প্রকাশ পেলেও অনেক ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা দেখা দেয়। আবার কোনো কোনো শিশুর ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াও হৃদরোগ থাকতে পারে।
 
 
শিশুর দুধ পান বা খাবার খাওয়ার সময় দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, অতিরিক্ত ঘাম, শ্বাসকষ্ট, বারবার বুকের সংক্রমণ, স্বাভাবিকভাবে ওজন না বাড়া, দ্রুত হাঁপিয়ে যাওয়া কিংবা ঠোঁট ও শরীর নীলচে হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।
 
 
এভারকেয়ার হসপিটালস বাংলাদেশ (ঢাকা ও চট্টগ্রাম)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও ডা. রত্নদ্বীপ চাস্কার বলেন, ‘১০ বছরের গৌরবময় এক যাত্রা সম্পন্ন করল আমাদের পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগ। হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে জন্মের পরপরই বা শৈশবের শুরুতে রোগ শনাক্ত করা গেলে ডিভাইস ক্লোজার পদ্ধতিতে চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব।’
 
 
তিনি গর্ভাবস্থায় নিয়মিত আলট্রাসনোগ্রাফি এবং জন্মের পর শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রের নিয়মিত পরীক্ষা করানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
 
 
ডা. তাহেরা নাজরীন বলেন, ‘শিশুদের হৃদরোগের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় শ্বাসকষ্ট, খাওয়ার সময় ক্লান্ত হয়ে পড়া, অতিরিক্ত ঘাম বা ওজন না বাড়ার মতো লক্ষণকে সাধারণ সমস্যা মনে করা হয়। এসব লক্ষণ বারবার দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।’
 
 
তিনি জানান, গত ১০ বছরে বিভাগটিতে ডিভাইস ক্লোজার পদ্ধতিতে ২০০-এর বেশি শিশুর সফলভাবে চিকিৎসা করা হয়েছে। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক শিশুই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে। শিশুর জন্মের পূর্বেই  ফিটাল  ইকো কার্ডিওগ্রাফি এবং মায়ের গর্ভধারণের পূর্বে এমএমআর টিকাদান শিশুর হৃদরোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
 
 
গত ১০ বছরে এভারকেয়ার হসপিটালস বাংলাদেশ-এর পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগ শিশুদের জন্মগত হৃদরোগ ও অন্যান্য সমস্যা নির্ণয় ও চিকিৎসায় বিশেষায়িত সেবা দিয়ে আসছে। এই সামাজিক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি, গত এক দশকে এই বিভাগের সেবার ধারাবাহিকতা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। 
 
 
পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন