চট্টগ্রাম বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

চট্টগ্রামে শিশুশ্রম নিরসনে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জোরদারের সিদ্ধান্ত

চট্টগ্রামে শিশুশ্রম নিরসনে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জোরদারের সিদ্ধান্ত

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৩:৪৩ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামে শিশুশ্রম নিরসন এবং শিশুদের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত সভা আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদের ২১তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই), চট্টগ্রাম এবং ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা) যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে।

 

 

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পরিষদের সদস্য, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা , নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় শিশুশ্রম নিরসন, ঝুঁকিপূর্ণ খাতে শিশুশ্রম বন্ধে আইনি নজরদারি জোরদার, শিশুদের শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের আওতায় আনা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন করণীয় নির্ধারণ করা হয়।

 

সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, ‘দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এনজিও, নাগরিক সমাজ, সরকারি প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। এনজিও ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের পরিধিতে সময়ের সঙ্গে আধুনিক পরিবর্তন আনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’

 

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুসরাত সুলতানা বলেন, ‘শিশুদের উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। স্বচ্ছতা বজায় রেখে এনজিও ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন সম্ভব।’

 

ইপসার হেড অব অ্যাডভোকেসি মোহাম্মদ আলী শাহীন বলেন, ‘জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতির কারণে ঘরবাড়ি হারিয়ে প্রতিনিয়ত অনেক পরিবার চট্টগ্রামে আসছে। এসব পরিবারের শিশুরাই শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীরা নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইপসা ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের উন্নয়নে কাজ করছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এনজিও দের সমন্বয় বাড়ানো গেলে এসব ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।’

 

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসানের নেতৃত্বে সভার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে ছয়টি খাত থেকে শিশুশ্রম নিরসন করা হয়েছে। বর্তমানে ইটভাটা ও প্লাস্টিক কারখানাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’তিনি আরও বলেন, শিশুদের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং নিরাপদ ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তাদের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।

 

সভায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী, শ্রম অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের পরিচালক হাফেজ আহাম্মদ মজুমদার, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক বিশ্বজিৎ শর্মা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), চট্টগ্রামের উপ পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সালাম, ঘাসফুল, প্রত্যাশীসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন। সভায় শিশুশ্রমমুক্ত সমাজ গঠনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পূর্বকোণ/নুসরাত

শেয়ার করুন