সীতাকুণ্ডের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড এলাকায় দুষ্কৃতকারীদের তৎপরতা, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই কিংবা যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম। একই সঙ্গে স্থানীয় থানার সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ অভিযান চালানো এবং শিপ ইয়ার্ড এলাকায় টহল জোরদার করা হবে।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড মালিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা জানিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম। শিপ ইয়ার্ডে আকস্মিক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ শিল্প এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ সভার আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সভায় শিপ ইয়ার্ডের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, শ্রমিক অসন্তোষ, চুরি-ডাকাতি, বহিরাগতদের হুমকি এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম বলেন, কোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশকে অবহিত করতে হবে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো দুষ্কৃতকারী শিপ ইয়ার্ড এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিপ ইয়ার্ড এলাকায় টহল জোরদার করা হবে। প্রয়োজন হলে স্থানীয় থানার সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে দুষ্কৃতকারীদের আটক করা হবে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, কোনো সংবাদ পাওয়ার পর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ তা ক্রস-ভেরিফিকেশন করবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিপ ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় শিপ ব্রেকিং শিল্পে দুর্ঘটনার অন্যতম ঝুঁকি হিসেবে প্রশিক্ষণের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন বিএসবিআরএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. নুর উদ্দীন (রুবেল)। তিনি বলেন, চীন ও ভারতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও বর্তমানে গ্রিন শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড পরিচালিত হচ্ছে। দেশের অর্থনীতিতে শিপ ব্রেকিং শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তবে বাংলাদেশে শিপ ব্রেকিং-সংক্রান্ত কোনো প্রশিক্ষণকেন্দ্র নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
শিপ ইয়ার্ড নিয়ে কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত সহযোগিতা চান নুর উদ্দীন রুবেল। একই সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময় সভার মাধ্যমে শিপ ইয়ার্ড মালিকদের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের দূরত্ব কমেছে এবং পুলিশের প্রতি মালিকপক্ষের আস্থা বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় বিএসবিআরএ’র নির্বাহী সদস্য মো. জাহেদুল হক শিপ ইয়ার্ডে চুরি, ডাকাতি কিংবা বহিরাগতদের মাধ্যমে হুমকির সম্মুখীন হলে তাৎক্ষণিকভাবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।
বিএসবিআরএ’র সভাপতি মো. মহসিন চৌধুরী বলেন, শিপ ব্রেকিং বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। দেশের অর্থনীতিতে এ শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শ্রমিক অসন্তোষ, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সীতাকুণ্ডের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড এলাকার মতো উপযোগী পরিবেশ এবং কম পারিশ্রমিকে শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে কম খরচে পণ্য উৎপাদনের সুযোগ বিশ্বের অন্য কোনো দেশে নেই।
মতবিনিময় সভায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বিএসবিআরএ চট্টগ্রামের সভাপতি মো. মহসিন চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম উদ্দিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. নুর উদ্দীন (রুবেল), সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম এবং নির্বাহী সদস্য মো. জাহেদুল হক ও মো. তসলিম উদ্দিন।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ২০১০ সাল থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শিপ ব্রেকিং শিল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে।
তিনি অসাধু ব্যক্তিদের অনৈতিক দাবি-দাওয়া, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধেও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
















